Search

Monday, February 14, 2022

কী মধু জার্মান চাদরে?

— মুহম্মদ মাহাথির  



খবর প্রকাশিত হয়েছে চলতি ফেব্রুয়ারিতেই রাষ্ট্রের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা ও আইজিপির স্টাফ অফিসার এসপি মোহাম্মদ মাসুদ আলম জার্মানি যাচ্ছেন পুলিশের জন্য বিছানার চাদর ও বালিশের কাভারের রং নির্ধারণ করতে।  

যেসব বেডশিট ও বালিশের কাভার কেনা হচ্ছে সেগুলোর দাম ত্রিশ কোটি টাকা। 

সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর সচেতন দেশবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। 

বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির সাথে করোনাভাইরাস মহামারির ফলে দেশের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ক্ষুদ্রতম অংশটি বাদে সংখাগরিষ্ঠ জনগণ সীমাহীন কষ্টে আছেন।  ডিসেম্বর ১৭, ২০২১, দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে দেশের ৫ কোটি ২ লাখ মানুষ। যে দেশের মানুষ দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উচ্চমূল্যে দিশেহারা, কর্মসংস্থানের অভাবে হাহাকার করছেন, সেই দেশের পুলিশের জন্য জার্মানি থেকে বিছানা চাদর ও বালিশের কাভার কেনার যুক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

পোশাকশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশেই বিশ্বমানের বিছানা চাদর ও বালিশের কাভার তৈরি হচ্ছে যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তাহলে জার্মানি থেকে এসব পণ্য কেনা কি বিলাসিতা নয়? 

জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে আকাশচুম্বি নিত্যপণ্যের দামের কষাঘাতে কুপোকাত গরিব শ্রেণির মানুষ। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মানুষ চলে এসেছেন গরিব শ্রেণির কাতারে। ভর্তুকি দেয়া দামে চাল-ডাল-আটা-চিনি-তেল কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন অগণিত মানুষ। অর্ধাহারে, অনাহারে থাকা মানুষের সংবাদ ও তথ্য প্রকাশির হচ্ছে গণমাধ্যমে। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএস-এর সাম্প্রতিক এক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়র অধীন স্নাতকোত্তীর্ণ ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী বেকার থাকছেন। বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত যুবক সমাজ। ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২, দেশরূপান্তরে বলা হয়েছে, , ৩১ হাজার ৮৭৪ জন বিসিএস উত্তীর্ণের চাকরি মিলেনি!  নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। 

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২২, সমকালে ‘সরকারের কম্বলে শীত যায় না গরিবের’ শীর্ষক সংবাদে বলা হয়েছে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণকৃত কম্বল প্রথম ধোয়ার পরেই আর ব্যবহারযোগ্য থাকে না। ৭০০ টাকার কম্বল বরাদ্ধ থাকলেও দেয়া হয়েছে ১৫০ টাকার কম্বল। সর্বস্তরে দুর্নীতির ভয়াল থাবা মানুষের ভোগান্তিকে বাড়িয়ে চলেছে।  

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১, আরটিভি’র এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় দেশে পুরুষদের মধ্যে ২২ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছেন। একইসঙ্গে এক চতুর্থাংশ প্রবীণ অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং অর্ধেকেরও বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে আছেন।

সম্প্রতি বগুড়ার মো. আলমগীর কবির নামে এক উচ্চ শিক্ষিত তরুণ 'শুধুমাত্র দু'বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই' বলে দেয়ালে দেয়ালে বিজ্ঞাপন সাটান যার মাধ্যমে সারাদেশের সার্বিক করুণ অবস্থাই উঠে এসেছে। 

প্রায়শই দেখা যাচ্ছে অপ্রয়োজনীয় ও অগুরুত্বপূর্ণ সফরে দলবেধে সরকারি চাকরিজীবীরা বিদেশ ভ্রমণ করছেন। কিন্তু এসব ব্যয়বহুল সফরের টাকাটা কিন্তু আসে মানুষের কষ্টার্জিত উপার্জন থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও নানা উপায়ে আদায় করা টাকা থেকে। এসব বিলাসবহুল সফর বাদ দিয়ে এই টাকা জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যয় করাই দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয়।  

এ যখন দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তখন কেনো জার্মানি থেকে এসব পণ্য আনতে হবে? তারপর খোদ সরকারই বলছে দেশেই পর্যাপ্ত ভালোমানের বিছানা চাদর আর বালিশ কাভার তৈরি হচ্ছে।

তাহলে কার কী স্বার্থ এতে লুকিয়ে আছে?  কী মজা জার্মান চাদরে, বালিশ কাভারে?  


No comments:

Post a Comment