Search

Saturday, April 28, 2018

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে রাস্তায় মেয়েটি একাই



ভরদুপুরে রাস্তার দুই পাশ দিয়ে যানবাহন আসা-যাওয়া করছে। সেই দুই রাস্তার মধ্যে তপ্তদুপুরে আইল্যান্ডে একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রী। সাদা প্ল্যাকার্ডে কালো অক্ষরে লেখা “এই অসুস্থ সমাজটাকে সুস্থ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এগিয়ে আসুন যেন নিরাপদ থাকে প্রত্যেকটি ঘরের নারী। দিন শেষে যেন কোনো মেয়েকে হতে না হয় ‘ধর্ষিতা’। বন্ধ হোক গণপরিবহনে ‘যৌন হয়রানি’।’’

ওই প্ল্যাকার্ডের নিচে লেখা হেল্প লাইন ৯৯৯। 

যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে শুক্রবারে দুপুরে তপ্তরোদে রাজধানীর শ্যামলীতে সড়কের আইল্যান্ডের ওপরের লেখা সংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিটি কলেজের ছাত্রী কানিজ ফাতেমা। রাস্তা পারাপারের সময় অনেকই দেখছেন প্ল্যাকার্ড হাতে তার এই মৌন প্রতিবাদ।

শুধু কানিজ ফাতেমাই নন, গণপরিবহনে নারীদের হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠছেন নারীরা। তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। আবার কেউ কেউ একা দাঁড়িয়েছেন রাস্তায়।

কানিজ ফাতেমা জানান, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই রাস্তায় তিনি। তিনি বলেন, আজই প্রথম প্রতিবাদ করছি এমন নয়। যখনই সুযোগ হয় তখনই রাস্তায়, বাসে পোস্টার নিয়ে দাঁড়াই। যাতে মানুষ এসব নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। আজকে মালিবাগ থেকে সাভার যাচ্ছি, পথে আসাদগেটে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এখন শ্যামলীতে দাঁড়ালাম। বাসের ভেতরেও কিছু সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেকই বিষয়টা দেখে প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ নিজে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। আবার অনেকে বিদ্রুপের চোখে দেখেছেন। কেউবা প্রশ্ন করেছেন, আমি যৌন নিপীড়নের কী বুঝি।

কেন এভাবে একা দাঁড়ানো প্রশ্নে কানিজ ফাতেমা বলেন, গণপরিবহনে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা কোনো সুস্থসমাজে হতে পারে না। গণপরিবহনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তাসহ স্বাধীনভাবে চলাচল নিশ্চিতকরণের দাবি সবার হওয়া উচিত। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে আহ্বান জানাতে আমার এ উদ্যোগ।

জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল শনিবার তুরাগ পরিবহনে উত্তরা ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য ওই ছাত্রী উত্তর বাড্ডা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। তখন বাসে যাত্রী ছিল সাত-আটজন।

নাটকীয়ভাবে বাস কর্মচারীরা বাস সামনে যাবে বলে যাত্রীদের নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী উঠানো বন্ধ রাখে। এ সময় ওই ছাত্রীর সন্দেহ হলে তিনি বাস থেকে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয় এবং কন্ডাক্টর ছাত্রীর হাত ধরে টানতে শুরু করে। কন্ডাক্টর ও হেলপারের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় লাফিয়ে পড়েন ওই ছাত্রী। এরপর তিনি অন্য একটি বাসে চড়ে ইউনিভার্সিটিতে চলে আসেন। পরদিন ঘটনার শিকার ছাত্রীর সহপাঠীরা ওই বাসের হেলপার ও কন্ডাক্টরের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করেন।

  • কার্টেসি — নয়াদিগন্ত/এপ্রিল ২৭, ২০১৮। 


সিটি নির্বাচন নিয়ে নাগরিক ভাবনা

বদিউল আলম মজুমদার

বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের মহাসড়কে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও এ বছর আরও সাতটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে স্থগিত হয়ে গেছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে, যেখানে ১৫ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী ফলাফল শুধু দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের-আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্যই নয়, পুরো জাতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে বলা যাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে।

গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত আটটি সভায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের দেড় সহস্রাধিক নির্দলীয় ব্যক্তির সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়। এসব অনুষ্ঠানে আমি একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম: বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যদি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে কি তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে? এ প্রশ্নের জবাবে প্রায় সবাই দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া, উত্তর দিয়েছেন যে বিদ্যমান অবস্থায় তাঁরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা দেখেন না। এর বাইরেও অন্য দুটি অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের ৪০ জনের অধিক রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিকে আমার একই প্রশ্ন করার সুযোগ হয়। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এ দুটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় সবাই, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও আগামী নির্বাচন নিয়ে একই মনোভাব ব্যক্ত করেন।

সমাজের একদল সচেতন ও জনমত সৃষ্টিকারী নাগরিকের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের হতাশাব্যঞ্জক মনোভাব জাতির সামনে একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বিশেষত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের জন্য, যাঁরা যেকোনো নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। এসব অংশীজনের যথার্থ ভূমিকাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসিকতা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা অপরিহার্য, যদিও যথেষ্ট নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, সবচেয়ে শক্তিশালী, কার্যকর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও সঠিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, যদি না সরকার তথা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারি দল সদাচরণ না করে।

স্মরণ করা যেতে পারে যে,২০১৩ সালের ১৫ জুলাই অন্য আরও তিনটি-রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে খুলনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ চারটি নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদায়ী মেয়ররা, যাঁদের প্রায় সবাই মেয়র হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত সফল, বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এরপর ৬ জুলাই ২০১৩ তারিখে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দল লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিএনপির কাছে পরাজিত হয়, যদিও গাজীপুরকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য এবং মোটামুটিভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। এসব নির্বাচনে জেতার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও তারা নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা চালায়নি। কারণ, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার প্রেক্ষাপটে, আওয়ামী লীগ তখন প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে তাদের বিশ্বাস করা যায় এবং তাদের তথা দলীয় সরকারের অধীনে সঠিক নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু পরপর পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ের পর পরবর্তীকালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল দুর্ভাগ্যবশত পূর্বনির্ধারিত হয়ে যায়। ফলে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন মোটামুটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ৫ জানুয়ারি ২০১৪-এর নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হয়নি।

আসন্ন গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ গাজীপুর ও খুলনার নির্বাচনে হারলে তাদের জনপ্রিয়তা সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বার্তা সবাই পাবে। আর কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জিতলে, তা আগামী নির্বাচনগুলোর যথার্থতা নিয়ে জনমনে আরও আশঙ্কা বাড়বে। গাজীপুর ও খুলনার নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, গত ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন করার মধ্য দিয়ে কমিশন সুনাম অর্জন করলেও, পরবর্তীকালে দুই দফা-২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ এবং ২৯ মার্চ ২০১৮ অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তা বহুলাংশে ম্লান হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ৩১ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, জাল ভোট, প্রাণহানি, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টাসহ নানা অঘটনের মধ্য দিয়ে...অনুষ্ঠিত হলো বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বলতে যা বোঝায় তার উল্টোটা দেখা গেছে স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে। এখন বাংলাদেশে নির্বাচন হয়ে দাঁড়িয়েছে পেশিশক্তির লড়াই।’

আরেকটি কারণেও এই দুটি নির্বাচন বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২০১৪ সালের একতরফা জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই দাবি করেছিলেন যে নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হলে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারলে এবং নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষকেরা উপস্থিত থাকলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব। কিন্তু ২০১৪ সালের পরের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, বিশেষত গত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা এটিকে ভ্রান্ত ধারণা বলে প্রমাণিত করেছে; বরং এসব অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে সরকার এবং সরকারি দল চাইলেই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে কারচুপি ও কারসাজির নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ না থাকলে তারা নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। জাল-জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে কমিশন নির্বাচনী ফলাফলও বাতিল করতে পারে। আমাদের উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার ব্যাপারে কমিশনের অগাধ ক্ষমতা রয়েছে। তাই কমিশনের দায়িত্ব তাদের ক্ষমতা সঠিক ও নির্মোহভাবে ব্যবহার করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষমুক্ত রাখা, যাতে এর বিশ্বাসযোগ্যতা সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষমুক্ত রাখতে হলে অসৎ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচনী অঙ্গন থেকে দূরে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলার বিবরণী, পেশা, আয়ের উৎস এবং নিজেদের ও নির্ভরশীলদের সম্পদ এবং দায়-দেনার তথ্য হলফনামা আকারে প্রদানের বিধান গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কথা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা তথ্য গোপন করে নির্বাচিত হলে নির্বাচন বাতিল হওয়ার কথা। এ ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত এরই মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। (দেখুন, বর্তমান লেখকের সম্পাদিত নবম জাতীয় সংসদ ২০০৮: অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের তথ্যাবলি প্রথমা প্রকাশন, ২০১২)।

এ ছাড়া হলফ করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। হলফনামায় প্রদত্ত ও আয়কর বিবরণীর তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বহুলাংশে কলুষমুক্ত রাখা যাবে। আমরা বহুদিন থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করার দাবি করে আসছি। আশা করি, খুলনা ও গাজীপুরের প্রধান রাজনৈতিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপন করার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন জনস্বার্থে এবং আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত রাখার লক্ষ্যে হলফনামা চুলচেরাভাবে যাচাই-বাছাই করার গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

  • ড. বদিউল আলম মজুমদার : সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক
  • প্রথমআলো/এপ্রিল ২৭,২০১৮

হাজার কোটি টাকার এলসি খোলা হলেও মালিক নেই, টাকা যাচ্ছে কোথায়!

রাশিদ রিয়াজ


আমদানি রপ্তানির আড়ালে বাংলাদেশ থেকে যেভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে সে নিয়ে এক এক গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ব্যাঙ্ক ম্যানেজমেন্ট বা বিআইবিএম এর এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, আমদানি রপ্তানির মাধ্যমে এসব মানি লন্ডারিং-এর ঘটনা ঘটছে।

গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে মানি লন্ডারিং এর ঘটনা অত্যন্ত ব্যাপক কিন্তু ঠিক কতো টাকা পাচার হচ্ছে সেটা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এই গবেষণার সাথে জড়িত ছিলেন বিআইবিএমের অধ্যাপক ড. আহসান হাবীব। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে এসংক্রান্ত যেসব পরিসংখ্যান দেওয়া হয় সেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। ধরুন কোন একটা জিনিস এখান থেকে চীনে রপ্তানি করা হলো আর ওখান থেকে যে পরিমাণ আমদানি করার কথা বলা হলো- এই দুটো হিসেবের মধ্যে যে তফাৎ সেসব ধরে একটা সংখ্যা কল্পনা করে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

এই গবেষণাটি করতে গিয়ে কিছু কেস স্টাডি সংগ্রহ করা হয়েছে। দেখা গেছে, শুল্ক বেশি দিতে হয় এরকম কোন একটি পণ্য হয়ত বিদেশ থেকে আনা হয়েছে কিন্তু ডিক্লেয়ার করার সময় বলা হয়েছে হাঁস মুরগির খাবার বা পোল্ট্রি ফিড কিম্বা শিল্প কারখানার যন্ত্রপাতির মতো কিছু পণ্য আনা হয়েছে, যেগুলোর শুল্ক কম।

মি. হাবীব বলেন, এক্ষেত্রে হয়ত মোট পেমেন্ট হওয়ার কথা ছিল এক হাজার কোটি টাকা। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থের শুল্ক দেওয়া হচ্ছে সেটা হয়ত মাত্র তিন থেকে চার কোটি টাকার। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে বাকি টাকাটা কোথায় পরিশোধ করা হলো?

অর্থাৎ মানি লন্ডারিং হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অর্থ এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে যাওয়া। দুটো কারণে এটা করা হয়, এক. অর্থ পাচার দুই. কর ফাঁকি দেওয়া।

গবেষকরা বলছেন, আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের সাথে যারা জড়িত তারাসহ ব্যাংকিং এবং শুল্ক দপ্তরের কিছু লোকজনও এর সাথে জড়িত।

গবেষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা শুল্ক ও ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে অর্থ পাচার করছেন। মি. হাবিব বলেন, ব্যাঙ্কের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এটা করা সম্ভব নয়। শুল্ক বিভাগের কিছু অংশও এর সাথে জড়িত থাকতে পারে কারণ যেসব জিনিস আনা হচ্ছে সেগুলো তারা খুলেও দেখছে না। তাদের সহযোগিতা ছাড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষে এধরনের লেনদেন করা সম্ভব নয়।

এরকম একটি ঘটনার উল্লেখ করেন আহসান হাবীব। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি ঘটনায় শুল্ক কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখলো যার নামে এলসি খোলা হয়েছে, সেই লোকটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা গেল বাংলাদেশে এক হাজার কোটি টাকার একটি চালান এসেছে কিন্তু যার নামে এলসি খোলা হয়েছিল তাকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তখন দুর্নীতি দমন কমিশন গ্রামের একজন কৃষককে ধরে নিয়ে এসেছিল।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা সবসময় ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগের জন্যে চাপ দিয়ে আসছে। এই পদ্ধতিতে শুধু ক্রেতা ও বিক্রেতারা লেনদেন করেন। এখানে ব্যাঙ্ক ও শুল্কের লোকেরা জড়িত থাকেন না। এরকম কিছু হলে মানি লন্ডারিং সম্পর্কে কোন কিছু ট্রেসই করা সম্ভব হবে না।

অবৈধভাবে এরকম অর্থ পাচারের ঘটনা কতোটা ধরা সম্ভব হচ্ছে – এই প্রশ্নের জবাবে আহসান হাবীব বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় যতো বাড়ছে ততোই এগুলো ধরা পড়ছে। যেমন ধরুন ব্যাঙ্কে আগে এক ধরনের ডিক্লারেশন দেওয়া হতো আবার কাস্টমসে দেওয়া হতো আরেক ধরনের ডিক্লারেশন। এসব তথ্য পরীক্ষা করে দেখার জন্যে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক ও কাস্টমসের মধ্যে কোন যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু এখন সবকিছু অনলাইনে যুক্ত। সেকারণে আস্তে আস্তে এগুলো ধরা পড়ছে।

তিনি বলেন, তবে এটাও ঠিক এভাবে যখন ধরা পড়ে যাচ্ছে তখন তারা নতুন কৌশলও গ্রহণ করছে। বিবিসি বাংলা

  • Courtesy: Amadershomoy.com/Apr 25, 2018

Friday, April 27, 2018

More graduates join jobless queues

Sohel Parvez


Unemployment among graduates rose in fiscal 2016-17 in a worrying development for a country with a sizeable young demographic.

The rate of unemployment among persons with education of up to tertiary level increased 11.2 percent in fiscal 2016-17 from 9 percent a year earlier, according to the latest Labour Force Survey (LFS) by the Bangladesh Bureau of Statistics (BBS).

Unemployment grew among those with other levels of education as well; only those with no education saw higher demand for jobs, BBS data shows.

“This is a structural mismatch. When we talk to relatives they say there are not enough jobs. But when we talk to entrepreneurs they say where are the people for hire?” said Zahid Hussain, lead economist of the World Bank's Dhaka office.

It shows that the quality of education from the existing system does not match the requirements of the job market, he said.

The rate of unemployment has increased at a time when higher numbers of graduates are coming out of universities and the economy is registering steady growth.

Some 4.55 lakh students graduated from public universities in 2015, up 8 percent from a year earlier, according to Bangladesh Education Statistics 2016.

“If you don't use your demographic dividend, the youth can go on to become a liability for the nation,” Hussain said.

Demographic dividend is the economic growth potential that can result from shifts in a population's age structure, mainly when the share of the working age population (15 to 64) is larger than the non-working age share of the population (14 and younger, and 65 and older).

The youth labour force (15 to 29) now stands at 2 crore.

The Centre for Policy Dialogue also noted the rising unemployment rate among the relatively more educated labour force, particularly among the educated.

On the other side, a high number of foreigners work here in various industrial sectors, including textile and garments, owing to a lack of technical skills of locally available labour force, it said.

No actual data is available on the number of foreigners working in the country as many come as tourists and work here without taking permits.

In 2016, $2.01 billion of remittance was sent from Bangladesh to other countries, according to the Washington-based think tank Pew Research Centre.

The highest amount was sent to China ($947 million), followed by Indonesia, Malaysia and India during the year.


The National Board of Revenue has tax record of 10,000-12,000 foreigners, said a senior official. Employers have to hire foreigners for dearth of personnel with the requisite technical and managerial skills, said Anwar-ul Alam Chowdhury, chairman of Evince Group, an apparel and textile company.

“We have to employ foreigners to enhance competitiveness and develop the skills of our workforce,” he added.

No one wants to hire from abroad if qualified people can be hired from local talent pool, said Md Siddiqur Rahman, president of the Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association. “Unemployment among the educated people will remain if we continue to maintain the traditional view of having BBA and MBA degrees,” he said, adding that more people with technical and vocational education are needed.

Both of them suggested building an education system based on the needs of various sectors of the economy.

The textile sector will need 175,000 persons with technical skills by 2021, said the chief of Evince Group, which hires 7,500 people. Of them, 30,000-35,000 could be met through the existing educational institutions.

Chowdhury went on to cite India as a template for Bangladesh to follow to address the problem.

The neighbouring country has opened a human resource ministry and assessed the human resource requirement for existing and potential industrial sectors. The human resource ministry also shared the requirement with the education ministry. “This current situation could have been averted had Bangladesh taken up such a strategy. This should be done. And if we can develop our educational system based on the requirement of industries, joblessness rate will decline.”

  • Courtesy: The Daily Star (Business)/ Apr 27, 2018

EU for inclusive, credible polls in Bangladesh

BD seeks EU support for sustainable return of Rohingyas 


The European Union (EU) at a meeting here hoped that the government of Bangladesh will ensure conditions for credible, transparent and inclusive elections. 

At the meeting, Bangladesh also reiterated its commitment to provide all-out support to the Election Commission in holding free, fair, and credible election.

The issues came up for discussions at the biennial meeting of the Subgroup on Good Governance and Human Rights in the framework of the EU-Bangladesh Cooperation Agreement (CA) held in Dhaka, said a joint press statement on Thursday.

At the outset, the EU delegation appreciated the generous and humane role and action of the people and the government of Bangladesh for hosting the Rohingya people fleeing violence in Myanmar. 

The Bangladesh side requested the EU to keep providing political and other supports in returning the Rohingyas to Myanmar in safe, dignified and sustainable manner. 

The EU expressed its commitment to continue mobilising political support and humanitarian assistance to help bring a lasting solution to this crisis, including the safe, dignified and voluntary return of the Rohingyas.

Both sides reaffirmed the commitment to strengthen cooperation in the field of human rights on the basis of shared principles and internationally recognised human rights standards.

The EU recalled the importance of strengthening the rule of law, and both sides underlined the contribution of civil society to a functioning democracy. It raised concerns over the situation of human rights, in particular reports of ‘extrajudicial killings’ and ‘enforced disappearances’. 

The Bangladesh side in response reiterated its ‘zero tolerance’ policy to violation of laws and human rights by law enforcing agencies and the government’s commitment and continued efforts to ensure accountability, including through the capacity building of the LEAs.

The two sides agreed to further enhance the promotion and protection of the rights of the persons belonging to minorities, ensuring non-discrimination in their exercise of political, economic, cultural and social rights.

Bangladesh reiterated its promise to continue its engagements with the Human Rights Council, treaty bodies and other related UN mechanisms.

They also discussed the link between the overall governance framework and the 2030 Agenda for sustainable development. 

To this end, the meeting acknowledged the government work and EU support on specific policies on public finance management and social protection as well as social security strategy.

‘Implement labour law properly’


Five years after the tragedy of the Rana Plaza collapse, the EU noted the progress made so far under the Sustainability Compact, notably on safety of working places but said more needs to be done in terms of aligning Bangladesh labour legislation with international labour conventions and their implementation.

It underlined the urgency to address the alleged acts of violence and harassments against trade unionists and the trade union leaders, and investigate those. 

The EU called on Bangladesh to ensure proper implementation of labour law in respect of registration of trade unions and urged to bringing in line with the ILO Convention on freedom of association, its draft law on Export Processing Zones. 

The issues related to labour rights will further be addressed during the High Level Sustainability Compact meeting to be held in June 2018 in Brussels.

Both sides agreed to continue working together to address human rights challenges in the EU and Bangladesh. 

These issues will be discussed more at the EU-Bangladesh Joint Commission, to be held in Dhaka in the first half of 2019.

Senior Secretary, Legislative and Parliamentary Affairs Division, Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs Muhammad Shahidul Haque led the Bangladesh delegation. It included representatives from various ministries. 

The EU delegation was led by Head of Division, Regional Affairs and South Asia in the European External Action Service (EEAS) Caroline Vinot.  

Diplomats from several European Union Member States also attended the meeting as observers.

  • Courtesy: The Financial Express/Apr 27, 2018

প্রভাবশালী বলে কোনো ছাড় নয় — শৈলকুপায় খেলার মাঠ দখল



ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মহেশপুর খেলার মাঠটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ফেলে রেখে যেভাবে দখল করে রেখেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মহেশপুর খেলার মাঠটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী আর স্থানীয় শিশু-কিশোরদের একমাত্র খেলার মাঠ। মাঠটি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। এই মাঠে প্রতিবছর ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়ে থাকে। পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলাও হয়। তা ছাড়া এলাকার লোকজনও এখানে অবসর সময় কাটাতে আসে। সাত-আট মাস ধরে এই খেলার মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখছে মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে করে দৈনন্দিন খেলাধুলা যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনি ওই সব টুর্নামেন্ট বা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। লোকজনও অবসর সময় কাটাতে মাঠটিতে আসতে পারছে না। এতে সবাই ক্ষুব্ধ হলেও কারও কিছু বলার সাহস নেই। কারণ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মালিক শামীম হোসেন মোল্লা খুবই প্রভাবশালী। তিনি শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। পাশাপাশি আবার শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন। 

প্রশ্ন হচ্ছে কেউ প্রভাবশালী হলেই কি তিনি যা খুশি তাই করতে পারেন? আস্ত একটি খেলার মাঠ তিনি কোন বিবেচনায় এভাবে দখলে রাখতে পারেন? এটা একেবারেই অবৈধ। এ ব্যাপারে শামীম মোল্লার বক্তব্য হচ্ছে ওই মাঠ আসলে কোনো খেলার মাঠ নয়। এটা পশুহাট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় লোকজন মাঝেমধ্যে খেলাধুলা করে। আর ওই স্থানে মালামাল স্থায়ীভাবে রাখা হয়নি। দুটি রাস্তার কাজ চলছে। সেই কাজের নির্মাণসামগ্রী ওই মাঠে রাখা হয়েছে। 

বোঝাই যাচ্ছে, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শামীম মোল্লা খেলার মাঠকে পশুর হাট বলছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা তাঁর কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তিনি তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অবশ্য শামীম মোল্লা একা নন। দেশজুড়েই চলছে আর্থিকভাবে আর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের রাজত্ব। তাঁরা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে যা খুশি তাই করছেন। আর অন্যের ঘরবাড়ি, জমি দখল করছেন, পাহাড় কাটছেন, বন কাটছেন, মাটি কাটছেন, অন্যায্যভাবে আরও নানা সুবিধা নিচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পান না।

আমরা মনে করি, শামীম মোল্লার মতো ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক দলে স্থান দেওয়া উচিত নয়। ক্ষমতাসীন দলের জন্য এটা বেশি প্রযোজ্য; কারণ, তাঁদের অন্যায় অপকর্মের জন্য দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। শৈলকুপার স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে এই খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রভাবশালী বলে শামীম মোল্লাকে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কার্টেসি —   প্রথম আলো/এপ্রিল ২৭, ২০১৮।  

কোটা সংস্কার আন্দোলন — এপ্রিলে প্রজ্ঞাপন না হলে ফের আন্দোলন


কোটা বাতিলের ঘোষণার প্রজ্ঞাপন চলতি মাসের মধ্যে জারি না হলে আবারও আন্দোলন হবে বলে জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। 



বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৬, বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার এতদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আমরা অস্বস্তিতে রয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা যদি এই মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি না হয় তাহলে আমরা আবার আন্দোলনে যাব।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ‘আমাদের এই কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু থেকেই অহিংস ছিল। কিন্তু সেই দিন বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে উপাচার্যের বাসায় যারা হামলা চালিয়েছে তাদের বিচার দাবি করছি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ৪টি মামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়েছে। আমরা চাই, সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মামলা হোক। অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার আশঙ্কা করছি আমরা।’

তিনি এ সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের হয়রানি না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। আগামী ৩০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি মিলানয়তনে শিক্ষক-ছাত্র মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • তথ্যসূত্র — মানবজমিন/এপ্রিল ২৬, ২০১৮। 


Thursday, April 26, 2018

আ.লীগ ২০ আসনও পাবে না


কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা ২০ আসনও পাবে না। যদি ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন দেয় ৬ মাসও টিকতে পারবে না। আর ভালোভাবে ভোট দিলে আমি সবার আগে গিয়ে সালাম দেব।’ গতকাল বুধবার বিকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউনহল মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ময়মনসিংহ জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ এম আবদুর রশিদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীর প্রতিক, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহ মহানগর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি একেএম উজ্জ্বল খান প্রমুখ।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, এখন দেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের রাজনীতিও নেই। আমরা দেশে গণতন্ত্র চাই, রাজনীতি চাই। গামছা নিয়ে দেশের জনগণকে আবার মালিক বানাতে চাই।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে যেভাবে জেলখানায় নেওয়া হয়েছে সেটা অন্যায় কাজ হয়েছে। টাকাই চুরি হয় নাই অথচ সরকার বলছে তছরুপ হইছে। পদ্মা সেতুর সময় বিশ্বব্যাংক যেমন বলছিল টাকা চুরি হইছে খালেদা জিয়ার এ মামলাতেই অনেকটা ওই রকমই হইছে।

  • Courtesy: Amadershomoy /Apr 26, 2018

কোথায় মিলবে স্বজন হারানোর বিচার?

মায়ের ডাকের গণশুনানি



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. শাহিনুর আলমকে ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তার পরিবারের। ধরে নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে নবীনগর থানায় খোঁজ নেয়, কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। সাতদিন পর তারা শাহিনুরের লাশ খুঁজে পায়। পরিবারের সদস্যদের এখনও প্রশ্ন, যার নামে কোনও মামলা নেই, কোনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই তাকে কেন হত্যা করা হলো?

শনিবার, এপ্রিল ২২, জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত গণশুনানিতে অংশ নেন গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা। এরকম আরও ৫০টিপরিবার শুনানিতে অংশ নিয়ে জানান, তারা আজও বিচার কিংবা স্বজনের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন, স্বজনকে হঠাৎ হারিয়ে ফেলার জন্য কারাদায়ী, এর বিচার কোথায় পাবেন? কোথায় গেলে মিলবে তাদের খোঁজ?

গুম হওয়া মানুষদের পরিবারদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর পক্ষ থেকে দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে অপহৃত হয়েছেন কমপক্ষে ৭২৭ জন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ফিরে এলেও অধিকাংশই নিখোঁজ। তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ২৫ বার সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। স্বজনদের প্রশ্ন, আর কতদিন আমরা অপেক্ষা করবো? কেউ যদি মৃত্যুবরণ করে থাকে অন্তত তার লাশটি ফেরত চাই আমরা।

শাহিনুর আলমের ছোট ভাই মেহেদি হাসান বলেন, আমার ভাইয়ের নামে কোনও মামলা ছিল না। সে কোনও রাজনীতি করতো না। ২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। আমরা সব জায়গায় খুঁজেও তাকে পাইনি। সাতদিন পর জানতে পারি আমার ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে। পরে আমরা বিচারের আশায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে একটি মামলা করি। ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহারের মামলা আমলে নেন। কিন্তু সেই মামলা এখনও ঝুলে আছে। কোনও শুনানি হয়নি।

গুম হওয়া মুন্নার বাবা নিজাম উদ্দিনের শেষ আকুতি ছিল তার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে না পারলে তার কবরটা অন্তত দেখিয়ে দেয়ার। সেই আকুতি কেউ রক্ষা করার আগেই তিনি চলে গেছেন পরপারে। সন্তানের অপেক্ষায় থেকে আরও মারা গেছেন মুন্নার মা, সূত্রাপুরের পারভেজ হাসানের বাবা এবং শ্বশুর। পারভেজের ছোট মেয়ে হৃদির আবদার বাবাকে দেখার। কেউ কি পূরণ করবে-প্রশ্ন স্বজনদের।

চট্টগ্রামের নুরুল আলম নুরুর স্ত্রীর দাবি তার চোখের সামনেই পুলিশ পরিচয়ে তার স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাসায় এসে কলিংবেল চেপে পুলিশ পরিচয় দেয়ায় তিনি গেট খুলে দেন। খালি গায়েই তার স্বামীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় তারা। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে এক সেকেন্ডও সময় দেয়া হয়নি। পুলিশ নিয়ে গেছে। আমাদের আশা ছিল নিয়ে গেছে যখন কোর্ট থেকে জামিনের আবেদন করবো। কিন্তু তার আগেই ভোর ৪টায় খবর আসে তার লাশপাওয়া গেছে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে। আমরা সকাল ৭টায় সেখানে পৌঁছাই। তার মাথায় দুটি গুলি করা হয়েছে। তিন মাসের বাচ্চা রেখে গেছে সে। সেই বাচ্চাবড় হয়ে গেছে এখন। বাবা বলে কিছু নাই তার।

এখনও আতঙ্কে দিন কাটান ফরিদপুরের মঞ্জুরুল মওলা। মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতেন তিনি। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দুদিন থানায় রাখা হয়। থানা থেকে দ্বিতীয় দিন রাতে নির্জন জায়গায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাথায় অস্ত্র ঠেকানো হয় বলেও জানান তিনি। এরপর তিনি সেখান থেকে কীভাবে জীবিত ফেরত এসেছেন সেই কথা মনে পড়লে আজও ভয়ে থাকেন।

একইভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেটের বদরুল আলমকে। ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় কয়েকটি গাড়ি তার গতিরোধ করে তুলে নিয়ে যায়। বদরুল বলেন, আমার নামে কোনও মামলা ছিল না। আমাকে তুলে নিয়ে বলা হয়েছিল রাইফেলের বাঁট দিয়ে পা ভেঙে দিবো, তোকে মেরে ফেলবো। তাদের অত্যাচারে ২১ দিন আমি হাসপাতালে ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তারপর আমার নামে ১১টি মামলা দেয়া হয়।

ভাইয়ের আশায় এখনও পথ চেয়ে আছেন রেহানা আজাদ মুন্নি। তার ভাই পিন্টুকে সাদা পোশাকধারীরা নিয়ে যায়। ডিবি, র‌্যাব সব জায়গায় খোঁজ নেয়ারপরও কোথাও তিনি খুঁজে পাননি তার ভাই পিন্টুকে।

তিনি বলেন, একটা লোক হারিয়ে যাবে তার দায় কী সরকারের নেই? কার কাছে বিচার দেবো? ছেলের আশায় থেকে আমার মা পাগল হয়ে গেছে। যখনইবাসার থেকে কোনও ফোন আসে আমার কাছে তখনই আঁতকে উঠি। আমি ভয়ে থাকি সবসময়। এভাবে কি বাঁচা যায়?

গুম হওয়া ছাত্রদলের নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা বলেন, আমার ভাইকে র‌্যাব-১ এর গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে ফেরত পাওয়ার আশায় আজ পর্যন্ত ২৫ বার প্রেস কনফারেন্স করেছি। শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় আমাদের ভাইকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। কোনও সংস্থা দেশের কোনও নাগরিককে এভাবে গুম করতে পারে না। গুম করার পর তাদের কী রকম টর্চার সেলে রাখা হয় আমি জানি না। সে বেঁচে আছে নাকি তাও জানি না। আমার ভাইয়ের দোষ ছিল সে বিএনপি করতো। পুলিশ আমাদের কোনও মামলা নেয়নি। কোর্টে রিট করেছি, কোনও অগ্রগতি নেই। যতক্ষণ তারা ফিরে না আসে আমরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে গুম খুন হত্যা বন্ধ করতে হলে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতনের দরকার। তিনি বলেন, সরকারের এই গুম খুনের সাথে দেশের অন্য যেসব রাজনৈতিক দল জড়িত নেই, আপনারা সবাই এই স্বজনহারাদের পাশে দাঁড়ান, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন। তাহলেই এই স্বজনহারা লোকরা সঠিক বিচার পাবে, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য গুম-হত্যা বন্ধ করার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানাই তাহলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হক, মাহফুজুল্লাহ ও নির্যাতনের শিকার এবং গুম হওয়াদের আত্মীয়স্বজন। 
তথ্যসূত্র —  দিনকাল/এপ্রিল ২২, ২০১৮ । 

বিশ্বে অন্যতম খারাপ বাংলাদেশ

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক  




গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার ‘গণমাধ্যমের স্বাধনীতা সূচক ২০১৮’ প্রকাশ করেছে।

তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০ দেশের মধ্যে ১৪৬। গত বছর একই অবস্থানে থাকলেও স্কোরের দিক থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের নেতিবাচক স্কোর ছিল ৪৮ দশমিক ৩৬। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ দশমিক ৬২।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এ অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো অবস্থান ভুটানের - ৯৪। এছাড়া সূচকে নেপালের অবস্থান ১০৬, আফগানিস্তান ১১৮, শ্রীলংকা ১৩১, মিয়ানমার ১৩৭, ভারত ১৩৮, পাকিস্তান ১৩৯, থাইল্যান্ড ১৪০ এবং কম্বোডিয়ার অবস্থান ১৪২।

আফ্রিকার দেশ উগান্ডা বাংলাদেশের চেয়ে ২৯ ধাপ এগিয়ে আছে। সূচকে দেশটির অবস্থান ১১৭।

রিপোর্টে সাংবাদিক ও ব্লগারদের ওপর উগ্রপন্থীদের হামলা এবং হুমকিকে বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতায় অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা ও মামলার কারণে সেলফ সেন্সরশিপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অন্তত ২৫ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন, এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় কয়েকশ ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারী বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে দেশে রাজনৈতিক নেতারা মিডিয়ার বিরুদ্ধে তাদের সমর্থকদেরকে প্রকাশ্যে উস্কে দিচ্ছেন। একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলো নিজেদের মতো করে সাংবাদিকতাকে ব্যবহারের যেসব চেষ্টা করছে- যা গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হয়ে উঠছে।

ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বছরের মতো সূচকে পিছিয়েছে। গত বছরের চেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে এবার ট্রাম্পে দেশের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৪৫।

সূচকে প্রথম ৫টি স্থান যথাক্রমে নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, ও সুইজারল্যান্ডের। শেষের দিক থেকে ৫টি দেশ হল যথাক্রমে উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, তুর্কমেনিস্তান, সিরিয়া ও চীন।

তথ্যসূত্র —   যুগান্তর/ এপ্রিল ২৫, ২০১৮।