Search

Monday, November 27, 2017

তবু গুম হওয়ারা ফিরছে কই?




‘বাবা মারা গেলে সন্তান কবরের পাশে গিয়ে জিয়ারত করে। কিন্তু গুমের শিকার আমার বাবা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, আমি জানি না। আমার মতো দুর্ভাগা আর কেউ নেই।’

কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন শাহরিয়ার কবির—কুমিল্লার লাকসামের বিএনপি নেতা হুমায়ুন পারভেজের ছেলে। চার বছর ধরে তাঁর বাবার খোঁজ নেই। শুধু শাহরিয়ার কবির নন, তাঁর মতো আরও দুটি পরিবার তাদের স্বজনসহ গুমের শিকার সবাইকে ফিরে পেতে অাকুল আকুতি জানায়। কার কাছে? বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত ‘গুম, খুন ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে গুমের শিকার পরিবারগুলো উপস্থিত ছিল। গতকাল ২৬ নভেম্বর রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থেকে তাঁর বাবা হুমায়ুন পারভেজ এবং রাজনৈতিক সহকর্মী সাইফুল ইসলাম ও জসিমউদ্দিন অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথে র‍্যাব-১১-এর একটি দল কুমিল্লার হারিসপুরে অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে। একপর্যায়ে র‍্যাবের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে তিনজনকে নামিয়ে তঁদের গাড়িতে তুলে নেন। পরদিন জসিমউদ্দিনকে লাকসাম থানায় হস্তান্তর করা হলেও হুমায়ুন পারভেজ চার বছর ধরে নিখোঁজ। এ ব্যাপারে লাকসাম থানায় মামলা হয়েছে। জসিমউদ্দিন এলাকায় অাছে। তবু  পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

হুমায়ুন পারভেজের স্ত্রী ও অনুষ্ঠানের সভানেত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, সন্তানের শোকে তাঁর শ্বশুর মারা গেছেন। স্বামীকে ফেরত পেতে তিনি ঘর থেকে বেরিয়েছেন। তিনি সব গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

একই ঘটনায় গুমের শিকার সাইফুল ইসলামের ছেলে রাফসানুল ইসলাম দাবি করেন, চার বছর আগে গুমের মামলা করলেও তা এগোয়নি। মামলা নিয়ে পুলিশও কোনো কথা বলেনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রকাশকসহ এ নিয়ে ৪০০ ব্যক্তি গুম হয়েছেন।

চার বছর আগে রাজধানী থেকে গুম হন সাজেদুল ইসলাম। গতকাল সেমিনারে তাঁর বোন আফরোজা ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর র‍্যাব রাজধানীর বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে তাঁর ভাই সাজেদুল ইসলামসহ ছয়জনকে এবং বাসা থেকে আরও দুজনকে ধরে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। র‍্যাব সদর দপ্তরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্থানে স্বজনেরা খুঁজে চলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আফরোজা ইসলাম মনে করেন, যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী রফিক সিকদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি রবিউল হোসেন।


No comments:

Post a Comment