Search

Monday, November 27, 2017

আজ শহীদ মিলন দিবস - বিচারের বাণী কাঁদে নীরবে নিভৃতে

কাদের গনি চৌধুরী 


শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ। ১৯৯০ সালের এই দিনে সাক্ষাত স্বৈরাচার  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের (এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত) লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি করে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বিএমএ’র তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল অালম খান মিলনকে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ রোষে বিষ্ফোরিত হয় গোটা বাংলাদেশ। আজকের এই দিনে ডা. শামসুল অালম  খান মিলন যখন বিএমএ নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সঙ্গে রিক্সায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির চত্বর অতিক্রম করছিলেন-ঠিক তখন এরশাদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের বুলেট দীর্ণ করে ডা. মিলনের বুক। মুহূর্তে তিনি রিক্সার ওপর ঢলে পড়েন। রিক্সা বেয়ে রক্তধারা প্রবাহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পিচঢালা রাস্তায়। ছাত্র-জনতা  ধরাধরি করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ডা. মিলন মৃত্যুবরণ করেন। পেশাজীবী সংগঠনের তরুণ নেতা ও প্রগতিবাদী রাজনীতির সমর্থক এবং একজন চিকিৎসকের গুলিতে শহীদ হওয়ার ঘটনা মুহূর্তেই ’৯০-এর চলমান স্এরশাদ বিরোধী আন্দোলন স্বৈরাচারীপ মৃত্যুশেল  গণ অভ্যুত্থানে পরিণত করে। রাজধানী ঢাকা সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভ এবং উত্তাল মিছিল নগরীতে পরিণত হয়। ক্যাম্পাসে বের হয় খণ্ড  মিছিল। মিছিল ছড়িয়ে যায় সারাদেশে। পুলিশ ও এরশাদের ঘাতকবাহিনীর সাথে বিক্ষুব্ধ জনতার লড়াই শুরু হয়। অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে গোটা দেশ। 

এর পরপরই সন্ধ্যার দিকে ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রধান দুই শীর্ষ নেত্রী বেগম  জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গৃহবন্দী করে স্বৈরাচারী এরশাদ।  সন্ধ্যার পরে রাজধানী ঢাকা শহরে কার্ফ্যু জারি করা হয় এবং কাফ্যু ভেঙে জনগণ এরশাদ পতনের আন্দোলন শুরু করে। গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। স্লোগান ওঠে-শহীদ ডা. মিলনের রক্ত-এরশাদ পতনের মন্ত্র’‘,এরশাদের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে’ ও  রশি ধরে মার টান, গদি হবে খান খান ইত্যাদি। 

কয়েক দিনের টানা গণ অভ্যুত্থানের ফসল হিসেবে ’৯০-এর ৪ ডিসেম্বর জনতার রায়ের কাছে মাথা নত করেন। সাধের তখত ছাড়তে হয়। শহীদ হওয়ার সময় ডা. শামসুজ্জামান খান মিলন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক ছিলেন। 

১৯৯০ সালের ২৭ নবেম্বর-এর   এই শোকাবহ ঘটনার স্মরণে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতি বছর শহীদ ডা. মিলন দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ডা. শামসুল আলম খান মিলনকে সচরাচর শহীদ ডা. মিলন সম্বোধন করা হয়।  মৃত্যুকালে পেশায় চিকিৎসক শামসুল আলম খান মিলন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়া ওই সময় তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম-মহাসচিবও ছিলেন।

ডা. মিলনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। ১৯৭৩ সালে তিনি সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে শিল্পকলা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টস) বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি এইচএসসি পাস করেন নটরডেম কলেজের ছাত্র হিসেবে। এরপর চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন (ব্যাচ কে-৩৪)। ১৯৮৩ সালে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ও ডাক্তারি পেশায় যোগ দেন।

সেদিন দেশব্যাপী রাজপথ-রেলপথ অবরোধ আন্দোলন চলছিল। ঘটনার দিন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের একটি সভায় যোগ দিতে রিকশাযোগে পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) যাচ্ছিলেন ডা. মিলন।  ডা. মিলনকে  ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে দাফন করা হয়।

No comments:

Post a Comment