Search

Tuesday, September 25, 2018

স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় - ডিআরইউ

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সব ধারা, উপধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ সংসদে পাস হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সাংবাদিক সমাজের মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ উপেক্ষা করে এ আইন পাস করায় নিন্দাও জানিয়েছেন ডিআরইউ নেতারা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন খান গতকাল এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, বহুল আলোচিত এ বিলের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর থেকেই সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন সুনির্দিষ্ট কিছু ধারায় আপত্তি জানিয়ে আসছিল। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে আপত্তিকর ধারাগুলো বাদ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর সংসদীয় কমিটিতেও সাংবাদিক নেতারা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেন।

বিবৃতিতে ডিআরইউ নেতারা বলেন, মত প্রকাশের অন্তরায় ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা হতে পারে এমন কোনো ধারা আইনে থাকবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করলাম, সাংবাদিকদের সব মতামত ও সুপারিশ উপেক্ষা করেই ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস করা হলো। এতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করে সেগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় ছড়িয়ে দেয়া, ব্রিটিশ আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করার বিধান রাখায় সাংবাদিকদের নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিধান মৌলিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনটি তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে সাংবাদিক সমাজের দেয়া সুপারিশ আমলে নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন, আপত্তিকর ও নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ডিআরইউ।

  • কার্টসিঃ বনিক বার্তা/ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮ 

Are high-quality roads too much to ask for?

Editorial 

Remove inefficiency in road construction

We agree with roads and highways officials and experts who have recently said that the lack of proper road infrastructure is a major hindrance to Bangladesh becoming a developed country. It is a known fact that the cost of per kilometre road construction in Bangladesh is the highest in the world while the quality of roads being constructed is extremely poor. Not only that, many of the existing roads are in an abysmal condition despite so much money being spent on maintenance. In the last nine years, according to a leading Bangla daily, Tk 11,000 crore was spent on maintenance of roads and a whopping Tk 46,500 crore has recently been allocated for the same purpose. Despite thousands of crores of taxpayers' money being spent on road maintenance, 4,750km of roads remain in bad condition.

Poor planning, design, implementation and use of low-quality materials, among other things, are largely to blame for the sorry state of our road infrastructure. And we hope that the authorities understand the various implications of the lack of proper road infrastructure. Firstly, this is costing us potential foreign investment. Secondly, how can we expect to continue our growth momentum without proper road infrastructure and adequate road network? Bangladesh needs 80,000km of roads whereas currently the road network constitutes only 21,000km.

How much longer are we going to keep wasting public money in the name of cost overruns and project delays instead of addressing the myriad systemic flaws, i.e. improper planning and design, inefficiency in project implementation and rampant corruption? Furthermore, the fact that roads are being constructed upon political considerations does not help. It is time that policymakers realised the need to put public interest first and began addressing these issues because at the current snail's pace of development of road infrastructure, our growth momentum may be difficult to sustain.

  • Courtesy: The Daily Star /Sep 25, 2018

ওএমএসের জব্দ পণ্য হয়ে গেল রেশনের!

এস এম আজাদ   

ভর্তুকি সুবিধায় স্বল্পমূল্যে ট্রাকে করে খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) জন্য খাদ্যসামগ্রী কালোবাজারে বিক্রির ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে কালোবাজারি চক্র। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে এসব খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করে ডিলারদের মাধ্যমে। সম্প্রতি র‌্যাব প্রকাশ্যে অভিযান চালিয়ে যেসব খাদ্যসামগ্রী জব্দ করেছে, সেগুলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশনের সামগ্রী বলে প্রমাণ করার পাঁয়তারা চলছে। একই সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি এবং তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদেরও ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে। র‌্যাবের অভিযানে জব্দ করা ২১৫ টন চাল, গম ও আটার মধ্যে রেশনের কিছু গম আছে বলে দাবি করছে একটি পক্ষ।

এর সূত্রে ধরে অভিযুক্ত ওএমএস ডিলার ও শ্রমিক নেতারা দাবি করছেন, জব্দ করা সব খাদ্যসামগ্রীই বৈধ এবং এর সঙ্গে ডিলারদের সম্পৃক্ততা নেই। গতকাল সোমবার এমন দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয় ঢাকা মহানগর ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে। সেখানে অভিযানের ১৬ দিন পর নতুন দাবির বিষয়ে সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও কোনো জবাব দিতে পারেননি আয়োজকরা।

পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, তিনজন ডিলারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জব্দ করা খাদ্যসামগ্রীর একটি অংশ রেশনের কি না এবং বৈধভাবে বিক্রির জন্য ছিল কি না, তা যাচাই চলছে আদালতের নির্দেশে। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দ করা খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ টন রেশনের হতে পারে। বাকি সবই ওএমএসের, যার সঙ্গে ডিলাররা সরাসরি জড়িত। আসামিরা মামলা থেকে রেহাই পেতে অপকৌশল নিয়েছেন বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ওএমএসের সামগ্রী পাচার ধরা পড়ার পর থেকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে কালের কণ্ঠ। এতে জানা গেছে, ওএমএসের চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রির মাঠপর্যায়ের কাজে নেতৃত্ব দেয় সংশ্লিষ্ট সিবিএ তথা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের একটি চক্র। ওই সিন্ডিকেটের প্রধান আলমগীর সৈকতই গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। আলমগীর কয়েক বছর আগেও সিএসডির ‘কুলি’ ছিলেন। এখন তিনি কোটিপতি। দামি গাড়িতে চড়ে বেড়ান। আছে একাধিক বাড়িও।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিএসডির তালিকাভুক্ত অনেক ডিলার ঘরে বসেই টাকা পান। কাগজপত্রে বিক্রি দেখানো হলেও বাস্তবে ট্রাকে ভরে সামগ্রী নিয়ে যায় আলমগীরের সিন্ডিকেট। সিএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে চলছে এই ‘ওপেন সিক্রেট’ বাণিজ্য। ওএমএসের চাল ও আটা ট্রাকে নেওয়ার সময় পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেশনের ডিও দেখায় পাচারকারীরা। এ কারণে পথে তাদের কেউ ধরে না। এই ‘ডিও কৌশল’ নিয়েই তারা কালোবাজারির মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার ফন্দি এঁটেছে। 

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সিএসডি থেকে পাচার হওয়ার সময় আটটি ট্রাকভর্তি ১১৫ টন চাল ও আটা জব্দ করে র‌্যাব। তাত্ক্ষণিকভাবে সিএসডির ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির এবং গুদাম ইনচার্জ মনিয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৯ সেপ্টেম্বর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। ৯ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ১১টি আড়ত থেকে ওএমএসের আরো ১০০ টন চাল ও আটা জব্দ করে র‌্যাব। ওই ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রত্যাহার করা হয়েছে সিএসডি ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবিরকে। ১১ সেপ্টেম্বর ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার পরদিন দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) প্রতিবেদন দিয়েছে র‌্যাব। ওই মামলায় জামিন পেয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন ১২ নম্বর আসামি আলমগীর সৈকত।

প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা : ক্র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর ওএমএস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘কালোবাজারে বিক্রির জন্য’ গুদাম থেকে বের করার সময় জব্দ করা ওই খাদ্যপণ্যের সঙ্গে ডিলারদের জড়িয়ে তাঁদের ‘সামাজিকভাবে হেনস্তা’ করা হচ্ছে। ওএমএসে প্রত্যেক ডিলারের জন্য প্রতিদিনের বরাদ্দ থাকে এক টন চাল ও দুই টন আটা। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় সিএসডি থেকে তুলে ওই পণ্য বিকেল ৫টার মধ্যে বিক্রি করতে হয়। তিনি আরো বলেন, “অবিক্রীত মালামাল তাদারকি কর্মকর্তা ‘ব্যালান্স’ হিসেবে দেখিয়ে ডিলারের জিম্মায় দিয়ে দেন। পরদিন ডিলার নিজের খরচে নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্রে তা বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। অবিক্রীত মালামাল সিএসডিতে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’’ সারা দেশে আট শতাধিক ডিলার ওএমএসের সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং ‘অপপ্রচারের কারণে’ তাঁরা সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন বলে মন্তব্য করে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন হারুন।

সংগঠনের আহ্বায়ক আলমগীর সৈকত বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে মালামাল জব্দ করা হয়েছে তা বিভিন্ন বাহিনীর রেশনের মালামাল। অথচ আমাদের পাচারকারী অপবাদ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, আমাদের তিনজন ডিলারের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। রেশনের গম হয় না।’ জব্দ করা সব চাল, গম ও আটা রেশনের বলে দাবি করেন তিনি। ১৬ দিন আগে অভিযান হয়েছে, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, মামলা হয়েছে; এত দিন পর কেন এসব দাবি করছেন—কালের কণ্ঠ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর সৈকত বলেন, ‘আমরা আগে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’ তখন উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, এমন কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। চাল ও আটা কিভাবে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে গেল জানতে চাইলে সরাসরি জবাব না দিয়ে আলমগীর বলেন, ‘এটা ডিলারদের না।’ রেশনের পণ্য কিভাবে বিক্রি হয় এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি গ্রুপ ম্যানেজ করে করে। তবে এটার সঙ্গে ডিলাররা জড়িত না।’

তদন্তকারীর মতে একটি অংশ, তা-ও প্রমাণিত হয়নি : নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, তেজগাঁওয়ের পূর্ব তেজতুরী বাজারের সেলিম এন্টারপ্রাইজের মালিক সেলিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে ১৪ টন চাল ও ১৬ টন গম নিজ জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। র‌্যাব ১-এর প্রত্যয়নপত্রসহ তিনি সেগুলো তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাকে বিষয়টি যাচাই করে আদালতকে অবহিত করতে আদেশ দেন। সে অনুযায়ী গত ২২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ও কালোবাজারিসংক্রান্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন চিঠি দেন র‌্যাব ১ অধিনায়ককে। মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিনজন রেশনিংয়ের মাল নিচ্ছিল বলে আসে। একটি প্রমাণসাপেক্ষ বিষয়। সেখানে ৩০ টনের মতো আছে। আদালত বিবেচনা করবেন। আর এই একটি অংশের কারণে ওএমএসের চাল-আটার বিষয়টি ধামাচাপা পড়তে পারে না। ওএমএস-সামগ্রী বাইরে আসা বিশাল ব্যাপার। এখানে অনেক জবাবদিহি লাগে।’ রেশনিংয়ের হলে বাইরে যেতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আদালত দেখবেন। প্রমাণ দিতে হবে।’ আসামিদের গ্রেপ্তার না করার কারণ জানতে চাইলে পরিদর্শক কামাল উদ্দীন বলেন, ‘মামলায় আসামিদের পুরো ঠিকানা ছিল না। আমরা খোঁজখবর নিয়ে বের করেছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসেছে। বাকিদের ব্যাপারে অভিযান চলছে।’

র‌্যাব বলছে, আসামিদের অপকৌশল : ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সামনে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। এখন আসামিরা রেহাই পেতে অপকৌশল চালাচ্ছে। ট্রাকে কিছু গম পাওয়া যায়, যেটা মামলার এজাহারে এবং জব্দ তালিকায় সেভাবেই দেখানো হয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে জানা যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। তা ২৫ থেকে ৩০ টন। আমরা তো ২১৫ টন জব্দ করেছি। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে যা পাওয়া গেছে সবই ওএমএস।’ তিনি আরো বলেন, “অভিযানে উদ্ধার হওয়া বস্তায় লেখা ছিল ‘সুলভমূল্যে বিক্রির জন্য’। এটা ওএমএসের বস্তায় লেখা থাকে। ডিলাররা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করুক।”

সারওয়ার আলম বলেন, ‘পুলিশ লেখা গাড়িতে এবং পুলিশের রেশনের ডিও নিয়ে ওরা ওএমএসের চাল-আটা পাচার করে। এ কারণে অনেক সময় কেউ ধরে না। এটা ওদের কৌশল। এখন সেটাই বড় আকারে করছে।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর অভিযান হলো। আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলাম যে কোনো প্রমাণ থাকলে দেখান। তাঁরা দিতে পারেননি। তিন দিন পরে মামলা হলো। এরপর দুদকে রিপোর্ট দিলাম। এখন এত দিন পর সামান্য কিছু রেশনের বৈধ মাল বলে পুরো ব্যাপারে বলা অপকৌশল ছাড়া কিছু নয়।’

আঙুল ফুলে কলাগাছ আলমগীর সিন্ডিকেট : তেজগাঁও সিএসডির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মী কালের কণ্ঠকে জানান, বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ওএমএসের পণ্য কালোবাজারি ‘ওপেন সিক্রেট’ কারবার। আর এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন ট্রেড ইউনিয়ন বা সিবিএ নেতারা। সুবিধা পাচ্ছেন সিএসডির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ডিলারদের নিয়ে কালোবাজারির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন আলমগীর সৈকত। কয়েক বছর আগেও তিনি ছিলেন সিএসডির কুলি। এখন ঢাকায় তাঁর পাঁচটি বাড়ি ও জমি আছে। চড়ে বেড়ান নিজের দুটি গাড়িতে। সিএসডির পাশে ১১টি অবৈধ ঘর আছে আলমগীর সৈকতের, যেগুলো ভাড়া দিয়ে ‘লাখ লাখ টাকা’ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এখন ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা এই শ্রমিক নেতা কয়েক বছর আগে হয়েছেন ডিলার। চাল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক তিনি। সিএসডিতে মজুরিভিত্তিক শ্রমিকরা আলমগীরের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আলমগীরের ঘনিষ্ঠ ডিলার ও সিবিএ নেতা তোতা মিয়াও সিএসডির পাশে ঘর তুলে ভাড়া দিচ্ছেন। আটার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন নারায়ণগঞ্জের ডিলার সোহাগ।

কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, সিবিএ নেতা দুদু মিয়া গত ছয় বছরে দুইবার সভাপতি হয়েছেন। তিনি তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ী বস্তিতে ছিলেন ২০ বছর। তবে কালোবাজারি সিন্ডিকেটে জড়িয়ে এখন কোটিপতি। বাগানবাড়ীতে সরকারি জায়গা দখল করে দুদুও গড়ে তুলেছেন টিনশেড বাড়ি। আসামি লোকমান বর্তমান সিবিএর সাধারণ সম্পাদক। ওএমএসের চাল-আটা বিক্রির সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা তিনিও। লোকমান ও দুদু মিয়া সরাসরি ঢাকার বাইরে চাল ও আটা পাঠান। দিনে ট্রাকে পণ্য বোঝাই করা হলেও বের করা হয় রাতে।

মামলার আসামি হয়েছেন মোহাম্মদপুরের এমন এক আড়তদার বলেন, ‘ট্রাকের চালকরাই বিক্রি করে। রাতে এসে জানতে চায় লাগবে কি না। রাজি হলে রাতেই নিয়ে আসে।’ কয়েকজন ডিলার জানান, সফি মিয়া, নাসির মিয়া, সারোয়ার মিয়া, মাহবুবুল হক, হাশেম, সাইদুল, মানিক, হানিফ, ফারুক, জামাল ও লোকমান নামে ডিলার ও আড়তদার ওএমএসের চাল-আটা কেনেন। টঙ্গীর সাইফুল সেলিম, কচুক্ষেতের মুসা, মিঠু ও আসাদ এবং শ্যামবাজার ও সোয়ারীঘাটের কয়েকজন আড়তদার ওএমএসের চাল-আটা কিনে প্রকাশ্যে বিক্রি করেন।

তবে কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীর সৈকত বলেন, ‘পুরান ঢাকায় পৈতৃক একটি বাড়ি আছে আর একটি গাড়ি আছে। ২০০৮ সাল থেকে ডিলারশিপ আছে আমার।’ তিনি আরো বলেন, ‘সিএসডির পাশে আমার কোনো ঘর বা দোকান নেই। এগুলো মিথ্যা তথ্য।’

ডিলারদের ঘরে বসিয়ে টাকা দেয় ওরা : পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ডিলার কালের কণ্ঠকে বলেন, সিএসডি থেকে ওএমএস ও রেশনের সামগ্রী বাইরে যায়, এটা ‘ওপেন সিক্রেট’। যদি সঠিক তদন্ত হয়, তবে দেখা যাবে বেশির ভাগ ডিলারশিপ ঠিক নেই। তাঁরা দাবি করেন, ঢাকায় ৩৪০ জন তালিকাভুক্ত ডিলার আছেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন ১৪১ জন ডিলারকে চাল ও আটা বিক্রির জন্য দেওয়া হয়। তবে প্রতিদিন মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি ট্রাকে চাল-আটা বিক্রি হয়। বাকিগুলো চলে যায় কালোবাজারে। এ জন্য ঘরে বসেই টাকা পান বাকি ডিলাররা। ট্রাকের চালকরা বিক্রি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা দিয়ে দেয়। কোনো প্রকার কাজ না করেই প্রতি টনে পাঁচ হাজার টাকা হিসাবে দেওয়া হয় ডিলারদের। আলমগীর সৈকত এটা নিয়ন্ত্রণ করেন। ডিলাররা জানেনও না কোথায় তাঁদের ট্রাক।

সিএসডির আরেকটি সূত্রের দাবি, ডিলারদের তালিকা ধরে তদন্ত করলেই দেখা যাবে বেশির ভাগই ভুয়া। নামে-বেনামে ডিলারশিপ নিয়েছেন অনেকে। তাঁরা লোকজনের মাধ্যমে ঘরে বসে টাকা পেলেই খুশি থাকে। মূল টাকা আসলে সিন্ডিকেটের পকেটে যায়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার নেতা ও সিন্ডিকেটের হোতা আলমগীর সৈকত বলেন, ‘ব্যাপারটা আসলে তেমন নয়। একটা ডিলারি করে অনেকের পোষায় না। তাই অথরাইজ (অনুমোদিত) ব্যক্তি দিয়ে দেয়। তারা বেচাকেনার কাজ করে। আমরা সহায়তা করি।’
  • কার্টসিঃ কালের কণ্ঠ/ সেপ্টেম্বর ২৫,২০১৮ 

আইনটির বিষাক্ত কাঁটা সরিয়ে নিন

সৈয়দ আবুল মকসুদ  

মানবসম্পদ উন্নয়নসহ অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্জন এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশের চেয়ে ভালো। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুললেও আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও অনেক দেশের তুলনায় ভালো। সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি নির্মম, এমন অভিযোগ অবশ্য দেশের বাইরে থেকেও প্রায়ই ধ্বনিত হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্দিকের আপত্তি ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত উপেক্ষা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাস হয়েছে। এই আইন নিয়ে দেশের মানুষ শুধু নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইনটি সংসদে পাসের তিন দিন আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম এ আইন প্রণীত হতে যাচ্ছে।’ [বাংলাদেশ প্রতিদিন]

যেহেতু বাংলাদেশেই প্রথম এ ধরনের আইন হতে যাচ্ছে, সাইবার অপরাধ দমনে এ ধরনের আইন ভূমিকা রাখবে। সুতরাং আইনটি এমন হতে পারত যা বিশ্বে দৃষ্টান্তস্থানীয়। কিন্তু তার পরিবর্তে আইনটির গুণগত মান ও নৈতিক দিক নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনে বর্ণিত নাগরিক অধিকার সমুন্নত রেখেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী সংবাদ পরিবেশনের জন্য এ আইন অন্তরায় হবে না, তবে দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

আইনটি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এটি তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গেই যে সাংঘর্ষিক তা–ই নয়, সংবিধানের মূল নীতিরও পরিপন্থী। দুর্নীতি কমিয়ে আনা সরকারের অঙ্গীকার কিন্তু ‘দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য’ বলে বিবেচিত হওয়ায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করা সংবাদকর্মীদের পক্ষে অসম্ভব হবে। তাতে সরকারের জবাবদিহির জায়গাটি দুর্বল করে ফেলা হলো এবং সরকার হবে দুর্নীতিবান্ধব। ফলে সরকারের অনেক অর্জন আড়ালে পড়ে যাবে।

আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৩৯তম অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, এই আইনের মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষা না দিয়ে সরকার তা থেকে সরে গেছে। আইনটি সংশোধনের সুপারিশ করেছেন তাঁরা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ক্যাম্পেইনার সাদ হাম্মাদি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক বিবৃতিতে সরকারকে এই আইন কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) শনিবার এক বিবৃতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে স্বাক্ষর না করার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে আহ্বান জানিয়েছে। আইনটি সংসদে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেছে তারা। রাষ্ট্রপতিকে লেখা সিপিজের এশিয়া সমন্বয়ক স্টিভেন বাটলার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনটি বলবৎ হয়ে গেলে বাংলাদেশের সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা বিঘ্নিত হবে। প্রস্তাবিত আইনটির বিভিন্ন ধারা কীভাবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করবে, তা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন—ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গর্ব করার মতো ইতিহাস বাংলাদেশের রয়েছে। সেই সঙ্গে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় শক্তিশালী প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে এ পরম্পরা হুমকির মুখে পড়বে। এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গণতান্ত্রিক সমাজে বাংলাদেশের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এই আইনটি রচনা করার সময় থেকেই মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দেয় এবং আইনটি যাতে মতপ্রকাশের পথে বাধা না হয় এবং সাংবাদিকদের জন্য বিপজ্জনক না হয়, সে জন্য উদ্বেগ জানানো হয়। এর অনেক আগে থেকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য দাবি জানানো হচ্ছে। কারণ, এই ধারাটি একটি শক্তিশালী কালাকানুন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর দেখা গেল সেই ৫৭ ধারার উপাদানগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার অর্থ হলো এই এক গ্লাস শরবতের ভেতরে বিষ ছিল। সেই শরবতের পাত্রটি সরিয়ে ফেলা হলো, কিন্তু শরবতটি ভাত, ডালের বাটি, ভাজি এবং দুধের মধ্যে সমপরিমাণে মিশিয়ে খেতে দেওয়া হলো। তাতে যে বিষক্রিয়া কমবে, সে সম্ভাবনা নেই। বরং যোগ হয়েছে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের নতুন বিষ।

সবচেয়ে দুঃখজনক ও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো আইনটির ধারাগুলো নিয়ে যখন দেশে-বিদেশে কথা হচ্ছে, তখন আমাদের সংসদের সরকারি ও আধা-সরকারি দলের ১০ জন সদস্যও আইনটির ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করলেন না। কখনো আইনটি যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশোধন করা হয়ও, একদিন এ দেশের মানুষ বর্তমান সংসদের ৩৫০ জন সাংসদকে মনে রাখবে এই জন্য যে তাঁদের কারও ভিন্নমত দেওয়ার সৎসাহস ছিল না। তাঁদের জন্য বিষয়টি অতি অগৌরবের। পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি দলের বহু সদস্য কোনো কোনো প্রশ্নে স্বাধীন মত প্রকাশ করেন। সরকারের সমর্থক সবাই যদি সব ব্যাপারে একমত পোষণ করেন, তাহলে সংসদে কোরামের প্রয়োজন নেই—একজন মাত্র সদস্য উপস্থিত থাকলেই যথেষ্ট।

এই বিপজ্জনক আইনটির যাঁরা দেশের ভেতর থেকে বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা সরকারের অনেক ব্যাপারে সমালোচনা করলেও তাঁদের কেউ কেউ সরকারবিরোধী নন। এই আইন দ্বারা কে কখন অকারণ নিগ্রহের শিকার হবেন তা বলা যায় না। এই আইনের প্রশ্নে এখন যাঁরা নীরবতা অবলম্বন করছেন, এর বিষাক্ত তির একদিন তাঁদের এবং তাঁদের প্রিয়জনদের জীবনকেও ক্ষতবিক্ষত করতে পারে।

যেকোনো আইন রাষ্ট্রের সব মানুষের জন্য, কিন্তু এই–জাতীয় আইন শুধু ক্ষমতাসীনদের অবারিত সুযোগ করে দেয়। তার বাইরে যারা তাদের সবার গলার ওপরে ধারালো তলোয়ারের মতো ঝুলতে থাকে। পুলিশকে গ্রেপ্তারের যে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তাতে এ আইনের অপব্যবহার অবধারিত, ইচ্ছা করলে যে কেউ তার শত্রুকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে।

এই আইন একাডেমিক গবেষকদের জন্যও খুব বড় বিপজ্জনক। বিশেষ করে যাঁরা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করবেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনুসন্ধানমূলক কাজ করবেন, তাঁদের জন্য আইনটি বিপজ্জনক। কোনো বিষয়ে একই তত্ত্ব চিরকাল টেকে না। তাতে যোগ হয় নতুন নতুন উপাদান। সভ্য সমাজ তাতে আপত্তি করে না, বরং মেনে নেয়। ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়। ইতিহাসের ভুলগুলো দূর হয়। সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। গ্যালিলিও বা কপারনিকাসের শাসকদের মানুষ মনে রাখেনি, তাঁরা চিরস্মরণীয়। নতুন কথা বলতে দিতে হবে। সে কথা যদি আমরা বিশ্বাস না–ও করি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষাক্ত কাঁটা থেকে শুধু সাংবাদিকেরা মুক্তি চান না, সব মানুষ চায়। আমরা আশা করব, তার আগেই আইনটি থেকে বিষাক্ত কাঁটা সরিয়ে নেওয়া হবে।

  • সৈয়দ আবুল মকসুদ: লেখক ও গবেষক
  • কার্টসিঃ প্রথম আলো/ সেপ্টেম্বর ২৫,২০১৮ 

ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার এহসান দেশ ছেড়েছেন

  •  ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের মারধরের শিকার হন এহসান 
  •  এহসানের একটি চোখের কর্নিয়া গুরুতর জখম হয় 
  •  ভারতে এহসানের চোখে অস্ত্রোপচার করানো হয় 
  •  এহসান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল 
  •  গত মাসে এহসান দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় যান 
  •  বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের ৫ নেতা-কর্মী হলে থাকছেন


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের নির্যাতনের শিকার এহসান রফিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ছেড়েছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেছেন। অথচ ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের যে সাত নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছিল, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন হলেই থাকছেন। এমনকি যাঁকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে, তিনিও হলে থাকেন। একই ঘটনায় ছাত্রলীগ থেকেও তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বহিষ্কৃত প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সময় দিচ্ছেন।

সহপাঠীর কাছ থেকে ক্যালকুলেটর ধার নেওয়া নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মারধরের শিকার হন এহসান রফিক। তিনি দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁকে হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এতে এহসানের একটি চোখের কর্নিয়া গুরুতর জখম হয়। তাঁর কপাল ও নাক ফেটে যায়।

আহত এহসানকে দেশের একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম। এরপর ভারতের শংকর নেত্রালয়ে তাঁর চোখে এক দফা অস্ত্রোপচার করানো হয়। রফিকুল একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।

মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত মাসের শেষ সপ্তাহে এহসান দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে কী হয়, তা নিয়ে একটু ভীতি কাজ করছিল। কখন আবার কী হয়ে যায়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তাও ছিল। এহসান নিজেই চাচ্ছিল না সেখানে যেতে, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। তাই শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাঁকে বাইরে পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এহসান আহত হওয়ার পর নিরাপত্তাসংকটের কারণে আবাসিক হলের বরাদ্দ পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে সেটি সম্ভব নয় বলে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়।









২০১৭ সালে ড. িজগাবো কানো জুডো প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ হয়েছিলেন এহসান। তাঁর পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। ছবি: সংগৃহীত

হল কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ওমর ফারুককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া উর্দু বিভাগের মেহেদী হাসান ওরফে হিমেল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুহুল আমিন ব্যাপারী, দর্শন বিভাগের আহসান উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামিউল হক, লোকপ্রশাসন বিভাগের ফারদিন আহমেদকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তাঁরাও প্রত্যেকে হল শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং হল শাখার সহসভাপতি আরিফুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের সহপাঠী ও হলের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সামিউল ও ফারদিনকে মাঝেমধ্যে এসএম হলে আসতে দেখা যায়। স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত ওমর ফারুক ও দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত মেহেদী হাসান ১২ নম্বর কক্ষে থাকেন। এই কক্ষটি হলের অনেকগুলো রাজনৈতিক কক্ষের একটি। সামিউলও মাঝেমধ্যে এই কক্ষে অবস্থান করেন। এ ছাড়া আরিফুল ইসলাম ১৫২ নম্বর কক্ষে ও আহসান উল্লাহ ১৭৮ নম্বর কক্ষে থাকেন। রুহুল আমিন থাকেন বারান্দায়। হার্ডবোর্ড দিয়ে সেখানে একটি কক্ষের মতো করে নিয়েছেন।

তাঁরা সবাই হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নতুন করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি হওয়ার পর তাহসান আহমেদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে রাজনীতি করেন। ফেসবুকে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে এই আরিফুল ও রুহুল আমিনের পৃথক ছবি আছে। তাঁরা নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার প্রথম আলোকে বলেন, সাময়িক সময়ের জন্য বহিষ্কৃত কেউ হলে থাকতে পারবে কি না সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। থাকলে তিনি তা মেনে চলবেন। এহসান রফিকের ঘটনায় স্থায়ীভাবে কাউকে বহিষ্কার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই না করে তিনি কিছু বলতে পারছেন না বলে জানান।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, যে সময়ের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়, ওই সময়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুবিধা পাবে না, এটাই নিয়ম।
  • কার্টসিঃ প্রথম আলো/ সেপ্টেম্বর ২৫,২০১৮ 

সহস্রাধিক সাইট পেজে নজরদারি

রুদ্র মিজান 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৎপরতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। এর উপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে পারে একটি চক্র। যারা নানা  ধরনের উস্কানিমূলক পোস্ট, তথ্য এমনকি গুজব ছড়িয়ে দিতে পারে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। ইতিমধ্যে সহস্রাধিক সাইট, ফেসবুক আইডিতে নিয়মিত সাইবার টহল চলছে। গত কয়েক মাসে অর্ধশতাধিক ফেসবুক আইডি বন্ধ করা হয়েছে। এসব আইডি থেকে উস্কানিমূলক মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হতো বলে গোয়েন্দারা জানান।

গোয়েন্দা সূত্রমতে, প্রায় ১২০০ সাইট রয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে। এসব সাইট নিয়মিত নজরদারি করছে পুলিশের সাইবার মনিটরিং সেল। অন্তত পাঁচ শতাধিক জনবল এই কাজে নিয়োজিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেক সাইট, ফেসবুক পেইজ থেকে সরকার বিরোধী নানা স্ট্যাটাস, ছবি এমনকি তৈরি করা ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। এসব সাইটের বেশির ভাগই দেশের বাইরে থেকে পরিচালনা করা হয়। নজরদারির বিষয়ে উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, ভার্চুয়াল জগৎটা বিশাল। সকল সাইট, ফেসবুক আইডি নজরদারি প্রায় অসম্ভব। এত জনবলও আমাদের নেই। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব বিষয়ে যথেষ্ট সক্রিয় দাবি করে তিনি জানান, রাষ্ট্রবিরোধী, উস্কানিমূলক প্রচারণায় যেসব সাইট লিপ্ত আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রায়ই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

সূত্রমতে, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফেসবুক আইডি, পেইজ, লাইভ ও ইইটিউবকে এক্ষত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যানুসারে, সেইসঙ্গে গুজবও রটানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার বিরোধী নানা বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

সূত্রমতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য, ছবি, ভিডিও নজরদারি করা হচ্ছে। যারা নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এরকম ব্যক্তিদের ছবি, তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে প্রায় তিন শতাধিক ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। গোয়েন্দারা যাদের তথ্য সংগ্রহ করছেন তাদের অনেকেই বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নিয়মিত সাইবার টহলের কারণে ভার্চুয়াল জগতের বহু আগাম তথ্য এবং পরিকল্পনা জানা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছেন বলেও জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, সাইটগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিটি তৎপরতা সম্পর্কে পুলিশ অবগত আছে। শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা বেআইনি কোনো কাজ করলেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি।

ডিএমপি’র সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপি’র সাইবার ক্রাইমে যেসব অভিযোগ আসে তার বেশির ভাগই ব্যক্তিগত বিষয়ে। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সংক্রান্ত অভিযোগ খুবই কম। তবে এসব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হয়। সেইসঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু ফেসবুক আইডি, পেইজ নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। 

  • কার্টসিঃ মানবজমিন/ সেপ্টেম্বর ২৫,২০১৮ 

গাড়ির গতি কমছে না

নাসরিন আক্‌তার

সন্তানকে নিয়ে সড়ক পার হওয়ার জন্য জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গাড়ির গতি কমার কোনো লক্ষণ দেখছিলেন না তিনি। একপর্যায়ে গাড়ি একটু দূরে দেখে রাস্তা পার হতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ দেখলেন একটি বাস দ্রুতগতিতে ছুটে আসছে। এ সময় তিনি সন্তানকে নিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হন।

গতকাল রোববার সকালে মেরুল সড়কে দেখা যায় এ দৃশ্য। গত পাঁচ দিনে পল্টন, বিজয়নগর মোড়, কাকরাইল, শান্তিনগর, শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট ঘুরে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

কথা বলে জানা গেছে, অনেক গাড়িচালকই জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানোর নিয়ম সম্পর্কে জানেন না। এ পরিস্থিতিতে নগরপরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, লাইসেন্স দেওয়ার আগেই গাড়িচালকদের নিয়ম শিখতে হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারীদের পারাপারের সময় কিংবা হাত দিয়ে ইশারা দেওয়া হলেও গাড়ির গতি কমে না। পথচারীরা গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে কিংবা কখনো দৌড়ে রাস্তা পার হন। আর যেসব জায়গায় ট্রাফিক পুলিশ আছে, সেসব জায়গায় সংকেত দিলেও সময়মতো গাড়ির গতি কমছে না। গাড়িগুলো থামছে জেব্রা ক্রসিং পেরিয়ে বা এর ওপর।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, বিপণিবিতান ও জনসমাগমের এলাকায় পথচারীদের নিরাপদে ও সহজে পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং দেওয়া হয়। নিয়ম হলো, জেব্রা ক্রসিংয়ের সামনে গাড়ির গতি কমিয়ে আনতে হবে। আর সাদা দাগের আগে গাড়ি থামাতে হবে।

গত আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শতাধিক জেব্রা ক্রসিং ও গতিরোধক দেওয়া হয়। আরও বেশ কিছু জেব্রা ক্রসিংয়ের কাজ চলছে। তবে রাজধানীতে ঠিক কতটি জেব্রা ক্রসিং আছে, সেই সংখ্যা জানা যায়নি।

বিজয়নগর মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের একজন সার্জেন্ট বলেন, ‘৬০ ভাগের বেশি চালক ট্রাফিক আইন জানেন না। আর জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে থামা ও গাড়ির গতি কমানোর বিষয়েও তাঁরা সচেতন নন। আমরা রাস্তায় চলা গাড়িগুলোকে ট্রাফিক আইন মানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

গতকাল এই মোড়ে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি থামার সংকেত দিলে গাড়িগুলো থামাতে থামাতে জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর চলে আসে। স্বেচ্ছাসেবীরা সে সময় সেগুলোকে পেছনে নিয়ে যেতে বলেন। কয়েকটি রিকশাকে তাঁরা ঠেলে জেব্রা ক্রসিং থেকে সরিয়ে দেন।

কাকরাইল মোড়ে কথা হয় কামরুল ইসলাম নামের এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে সড়ক পার হই। কিন্তু প্রায়ই সময় গাড়ি জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর থামে। এ কারণে অনেক সময় রাস্তা দিয়েই পার হতে হয়। স্বেচ্ছাসেবক ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে ঠিক করতে পারছেন না।’

জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর যে গাড়ি থামানো যায় না, তা জানেন না তুরাগ বাসের চালক মো. সবুজ। মালিবাগ রেলগেট এলাকায় বলেন, ‘এগুলো দেখাই যায় না। মানুষ যেদিক দিয়া ইচ্ছা রাস্তা পার হয়। এতে আমাদের গাড়ি চালাইতে সমস্যা হয়।’ আর কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল জেব্রা ক্রসিংয়ের কী কাজ তা তাঁরা জানেন না। প্রাইভেট কারের একজন চালক বলেন, কেউ নিয়ম মানে না। তাই তিনিও মানেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম বলেন, ‘গাড়ি জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে সাদা দাগের আগে থামানোর নিয়ম। কিন্তু দেখা যায় গাড়িচালকেরা নিয়ম মানেন না। জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপরই দাঁড়ান। যাঁরা গাড়ি চালান, তাঁরা এসব নিয়ম জানেন বলে আমরা ধরে নিই। তাঁদের যাঁরা লাইসেন্স দিচ্ছেন, তাঁরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন। আর পথচারীদেরও এদিক–সেদিক দিয়ে পারাপার না হয়ে নিয়ম মেনে পার হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সড়কে চালক ও পথচারীরা যাতে নিয়ম মানেন এবং নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ সড়কে মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। সুনাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো ও পথ চলা। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এসব বিষয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে।’

এ বিষয়ে সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের সভাপতি নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, চালকেরা কোনো অবস্থাতেই গাড়ির চাকা জেব্রা ক্রসিংয়ে থামাতে পারবেন না। জেব্রা ক্রসিং এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে মানুষের চোখে পড়ে। জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে সংকেতচিহ্ন থাকতে হবে। যাতে চালকেরা আগে থেকেই জেব্রা ক্রসিংয়ের বিষয়টি জানতে পারেন এবং গাড়ির গতি কমাতে পারেন। এ ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার আগে গাড়িচালকদের নিয়মগুলো শিখতে হবে।

  • কার্টসিঃ প্রথম আলো/ সেপ্টেম্বর ২৫,২০১৮ 

India plans to use BD waterway for a freight corridor

Dhaka likely to select Indian ports as transshipment hubs


The Indian government is working on a plan to set up a waterway freight corridor to connect the mainland with the northeastern states via Bangladesh at a cost of Indian rupees 50 billion, according to economictimes.indiatimes.com
The move would substantially reduce the time taken to transport goods to the eight northeastern states of India and costs.

The proposed 900-km waterway would be used to transport freight from the northern and eastern states to the northeast and would start near Haldia in West Bengal, go to the Sundarbans, merge into the Padma river in Bangladesh and then join up with the Brahmaputra in Assam, the report said.

"We are working on the details of the project. It would substantially improve connectivity between the mainland states and northeast. The cost of freight transportation would come down substantially," shipping secretary Gopal Krishna told the Economic Times (ET).

Currently, highway connectivity to the Indian northeastern states is patchy and transportation of goods by road entails a high cost and takes time. According to the ministry's estimate, the waterway could help reduce the cost of transportation by about 70 per cent.

The Indian government is already developing a waterway along the Ganga river between Haldia and Allahabad (1,620 km) at a cost of Rs 45 billion. This link will also be utilised for trade between India and Bangladesh.

India and Bangladesh share a 4,095-km border, of which 1,116 km is along rivers, Krishna said

Bangladesh plans to use Indian ports as transshipment hubs."Instead of using Colombo or Singapore as a transhipment hub, Bangladesh is now looking at India. Our own container traffic moving to Colombo has come down as transhipment is now happening at our ports," he said.

The shipping ministry recently allowed foreign vessel operators to transport containerised cargo meant for import or export within ports located in Indian territory to ensure cargo doesn't land up in foreign hubs such as Singapore and Colombo.

He said that in the long term, India plans to develop two ports each on the west and east coasts as transshipment hubs.

  • Courtesy: The Financial Express /Sep 25, 2018

Lack of open space hits metro rail projects

Munima Sultana

The scarcity of open space in the city is gradually limiting the scope of constructing metro rail, project officials and experts said.
They said the ongoing metro rail projects have already hit a snag due to lack of adequate space for depots and construction yards.

According to them, one hectare of land is required to set up both construction yard and depot for each kilometre of metro rail. It means that 20-km MRT project needs 20 hectares of land for depots and another 20 hectares of land for construction yards.

Under the city's 20-year Strategic Transport Plan (STP), five mass rapid transits (MRT) or metro rails have been proposed for different corridors, covering stretches of over 100 km. Of them, only MRT line-6 is now under construction.

Sources said the construction of MRT line-6 is facing problem for lack of required space for construction yards along its 20-km corridor. However, land for depot was managed following the prime minister's intervention.

After failing to get required land for construction yards, sources said, Dhaka Mass Transit Company (DMTC), the executing agency of metro rail projects, has recently allowed the contractors of MRT-6 to use public spaces, including parks, for construction yards.

The contractors have already been allowed to use a portion of Suhrawardi Udyan and a park at Farmgate for this purpose, they added.

Experts think that although DMTC officials said the parks would be used as construction yards for a certain period, the open spaces would remain occupied for an unlimited period.

Some also believe that the parks could not be recovered again.

It is learnt that the cost of metro rail projects may go up two or three times mainly due to acquisition of huge private lands.

Sources said DMTC has already proposed acquiring more than 30 hectares of private land at Purbachal for setting up the depot for MRT line-1 which is now at the design stage.

But this MRT will also need 30 hectares of land for construction yards along its corridor from Airport Railway Station to Kamalapur Railway Station. The sites for these yards have not yet been selected.

The cost of the MRT-1 project is likely to be nearly 2.5 times higher than that of MRT-6 because of land acquisition, they added.

The Dhaka Mass Rapid Transit Development project office could manage 24 hectares of land for setting up depot for the MRT-6 from Rajdhani Unnayan Kartripakkha (Rajuk) to Uttra 3rd phase project site.

Different government agencies, including Dhaka North City Corporation, have declined to give their lands to the project office for the construction yards.

The MRT-6 is being constructed from Uttara 3rd phase project site to Motijheel on elevated corridor. At least four construction yards are required for the 20-km corridor.

DMTC officials said construction yards should be set up close to the MRT corridor so that inbuilt structures can be shifted easily. Due to traffic jam, construction yards cannot be set up outside the city.

The cost of MRT-1 project is likely to be more than Tk 600 billion due to acquisition of private land for depots. Though the project's Japanese financier expressed reservations about the use of private lands, it has finally accepted the government proposal, finding no other alternatives.

Under such circumstances, the cost of upcoming MRTs is also likely to be much higher than MRT-6 as those are planned to be constructed underground. The cost of MRT-6 was estimated at around Tk 220 billion.

A project consultant said it would be difficult to implement metro rail projects if efforts are not taken to conserve open spaces around the city immediately.

The MRT-6 project suffered many problems at the beginning of the planning stage due to the construction of Hanif flyover. For this reason, the alignment of MRT-6 had to be changed towards Motijheel area to reach Sayedabad.

But the consultants have yet to find ways to address the issue of the corridor expansion from Motijheel Shapla Chattar to Sayedabad due to lack of enough space.

Consultants also find it difficult to expand MRT-6 up to Joydevpur because of another expressway project there.

Unplanned construction of flyovers and expressways has created obstruction to not only MRT-6 but also upcoming MRTs, according to the consultants.
  • Courtesy: The Financial Express/ Sep 25, 2018

Country in grip of 'crony capitalism'

Experts worried over lack of accountability, diluted institutional effectiveness


Bangladesh is going through a 'crony capitalism' phase due to the growing nexus between certain political class and business class, experts said at a workshop in the capital on Monday.

Such 'monopolistic' crony capitalism is diluting the culture of accountability and institutional effectiveness in the country which may affect country's development in the long term, they warned.

"This country may be poised to a particular situation which is related to crony capitalism", eminent economist Wahiduddin Mahmud said while speaking at a workshop organised by South Asian Network on Economic Modeling (SANEM).

At present, with a periodic regime change, there is also a change of cronies, Mahmud said.

"But if we come to a situation where there is a continuity of a regime, then the cronies become increasingly monopolistic", he added.

Dr. Saadat Husain 

Mahmud's remark came when a former bureaucrat Dr. Saadat Husain warned that 'crony capitalism' is sapping good governance and the culture of accountability in the country.

"We are suffering from a culture of no accountability as we have seen in the case of BASIC Bank", Dr. Sadat said.

"The authorities precisely knew who the culprits were in this case but they could not go for any action", the former cabinet secretary of the government, said.

"This is an example of crony capitalism", Dr. Sadat said, "And When we talk in terms of SDGs, this will be our biggest challenge in achieving the global goals", he warned.

Apart from governance issues, experts at the event also questioned the effectiveness of One Stop Service scheme originally aimed at boosting investment in the country.

Mirza Azizul Islam

"It is said that Bangladesh has a generous Foreign Direct Investment policy-- which is true in paper only. But the support services, including that ‘One Stop Service’, is not really working", said former Finance Adviser of a caretaker government Mirza Azizul Islam.

He also said that the country needs to have some targeted promotional measures for attracting foreign direct investment.

"We need to have some strategies about where we want foreign investment and which companies we should target for that", Islam said.

"If we just go to some major overseas cities, invite some hundred companies and tell them that we have such liberal foreign investment policies-- that, I think, will not work", he added.

The former Finance Adviser also questioned the practice of recapitalising the state-owned enterprises-noting that such measure is a 'continuous drainage of public finance'.

"These SOEs are given loans at a subsidized rate. Those loans are never repaid-- but they continue to get loans. This has resulted in huge amount of debt service liability for the government", he said.

Dr. Wahiduddin Mahmud

Meanwhile, Dr. Wahiduddin Mahmud, in his speech, also warned that land scarcity is bound to become a major problem for the country in coming years.

"The problem will become even more acute when we go for the next stage of industrialisation", the eminent economist said.

"It will create environmental stress for further industrialisation. The land will become more costly and the environment mitigation costs of industrialisation will be increasingly high", Mahmud cautioned.

Speakers at the event also criticised the culture of cost and time overrun in the implementation of development projects.

"Our flagship project Padma Bridge was supposed to be completed by December this year. But now we hear that this will be delayed by four years", Dr. Sadat said.

Experts at the event also warned that Bangladesh needs to accelerate its investment-GDP ratio substantially to meet its long term development targets.

Selim Raihan

"Investment-GDP ratio has to be increased annually by 0.7 per cent in the next 12 years which is 1.75 times higher than the current annual percentage points", said SANEM Executive Director Professor Selim Raihan in his presentation.

He also identified the slow pace of structural transformation, infrastructural problems, slowdown in poverty reduction, rising inequality and weak state capacity in mobilising resources as major challenges for Bangladesh's development.

Earlier, the Bangladesh chapter of the 'Institutional Diagnostic Tool' was formally launched at the event.

SANEM in collaboration with the Economic Development and Institutions Research Programme is undertaking the study to design an 'institutional Diagnostic' tool that will permit the policy makers to identify weak institutional areas that restrict development.

Bangladesh is the third country in the world after Tanzania and Benin to conduct the study.

Former Chief Economist of World Bank Dr. Francois Bourguignon delivered a presentation at the event highlighting the core aspects of the Institutional Diagnostic Tools based on the lessons taken from conducting the same study in Tanzania.

Director General of Bangladesh Institute of Development Studies Dr. KAS Murshid and Executive Chairperson of Center for Development and Employment Research Dr. Rushidan Islam Rahman, among others, also spoke on the occasion. 
  • Courtesy: The Financial Express /Sep 25, 2018