Search

Wednesday, September 26, 2018

Empower NRCC

Editorial

It can't combat river encroachers otherwise


The purple colour of Karnopara Canal's water bears the evidence of indiscriminate discharge of toxic waste into it. Dyeing factories set up on both sides of the water body reportedly contribute to such pollution.

The media has for the last few decades highlighted the sorry state of our rivers, i.e. how powerful, vested quarters have taken advantage of the fact that the National River Conservation Commission (NRCC) was never given any legal or institutional capacity. The NRCC lacks teeth to do anything against polluters or river grabbers. Environmentalists have been voicing their concerns about this issue for many years, but the sad reality is that authorities are powerless to act because the NRCC cannot take any action in its present form.

It is not like there aren't enough laws to protect rivers. But who is going to implement those on behalf of the government, if not the NRCC? And whilst policymakers choose to turn a blind eye to the issue, we have thousands of fisherfolk out of jobs on the Buriganga River which is essentially a dead river. We see polluters wreaking havoc on other rivers like Norai, Debdholai and Balu rivers.

The media has covered the dual menace of pollution and river encroachment for years and yet nothing substantial has happened. The Buriganga may recover somewhere down the line as the tannery industry has been relocated to Savar, but the problem has basically been shifted to another river—Dhaleshwari—and while fishermen may one day fish again on the Buriganga, we may see new media reports in the coming years when the Dhaleshwari too begins to die due to pollution. If we are to save our rivers which are considered the lifeline of urban centres like Dhaka, then the time to act is now.

  • Courtesy: The Daily Star / Sep 26, 2018

সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশা

সম্পাদকীয়

গত রোববার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আয়োজিত এক সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে সওজের কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই অসন্তোষ জন-অসন্তোষেরই প্রতিধ্বনি। সংবাদমাধ্যমে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের অভিযোগ-অসন্তোষের ব্যাপক প্রতিফলন ঘটে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, রোববারের ওই সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনেক কর্মকর্তা এ বিষয়ে আত্মসমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিলেন। কৌতূহল জাগে, মন্ত্রীর অসন্তোষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মসমালোচনার কোনো সুফল কি ফলবে?

‘বাংলাদেশে মানসম্পন্ন সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে সেসব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে, যেগুলো ইতিমধ্যে বহুল আলোচিত। যেমন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনায় ত্রুটি আছে, সেগুলোর স্থায়িত্ব কম, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা, যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না; সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি ইত্যাদি। এই সবই বাস্তব সত্য। কিন্তু এসবের দায় কাদের? যাদের দায়, তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা ও চর্চা আছে কি না? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অনুশীলন না থাকলে কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হয় না।

সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, সওজের গত মে মাসের হিসাব অনুযায়ী ওই সময় পর্যন্ত দেশের প্রায় পৌনে ৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খারাপ। প্রশ্ন হলো, দেশের মোট সড়ক-মহাসড়কের চার ভাগেরও বেশির এই দুরবস্থা কেন হয়েছে। দুরবস্থায় পড়ার আগেই এগুলো মেরামত করা হয়নি কেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যেসব সড়ক-মহাসড়কের স্থানে স্থানে ভেঙেচুরে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো কত দিন আগে নির্মিত বা মেরামত করা হয়েছিল। প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কের স্বাভাবিক স্থায়িত্ব প্রত্যাশিত। কোনো সড়ক ৫ বছর, কোনোটি ১০ বছর টেকসই হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যায়, নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার দুই-এক বছরের মধ্যেই সেগুলো ভেঙেচুরে যায়, খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। তারপর সেসব বেহাল সড়ক-মহাসড়কের ভাঙাচোরা জায়গায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে মেরামতি চালানো হয়, কিছু সময় পরেই সেগুলো আবার ভেঙেচুরে যায়। এভাবেই অবিরাম চলতে থাকে সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের নামে অর্থ ব্যয়, কিন্তু দুর্দশা কোনোভাবেই দূর হয় না।

একটা বহুল উচ্চারিত অভিযোগ, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু কেন খারাপ? নির্মাণ ও মেরামতের কাজ তদারকির দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরা কি সে দায়িত্ব যথাসময়ে ও যথাযথভাবে পালন করেন? যদি করেন, তাহলে নির্মাণ-মেরামতের গুণগত মান খারাপ হয় কীভাবে? জনসাধারণের চোখের সামনেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলে—এ রকম অভিযোগসংবলিত চিঠিপত্র সংবাদপত্রের দপ্তরে আসে, অথচ যাঁদের ওপর এসব কাজের তদারকির দায়িত্ব, তাঁরা এসব দেখতে পান না—এটা হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তদারকির অভাবে নির্মাণ-মেরামতের গুণগত মান খারাপ হলে এবং সেই কারণে সড়ক-মহাসড়কগুলো অচিরেই ভেঙেচুরে গেলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি ও শাস্তির অনুশীলন নেই বলে অবাধে অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয় দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই—এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গত ৯ বছরে ৫৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। জনগণের এই বিপুল অর্থের কত ভাগ দুর্নীতিবাজদের পকেটে গেছে, তা হিসাব করার জন্য একটি তদন্ত হওয়া উচিত।

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর চির-দুরবস্থা স্থায়ীভাবে দূর করতে হলে এই খাতে যে অনিয়ম-দুর্নীতি স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, তা ভেঙে দিতে হবে।

  • কার্টসিঃ প্রথম আলো/ সেপ্টেম্বর ২৬,২০১৮ 

সংবিধানের মধ্যেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দেখছে বিএনপি

তানভীর সোহেল

সংবিধান সংশোধন না করেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্ভব বলে মনে করছে বিএনপি। বিদ্যমান সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের একটি রূপরেখা তৈরি করেছে দলটি।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সরকার চাইলে তাদের এই রূপরেখা দেওয়া হতে পারে। অথবা এই রূপরেখা প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু করতে পারে দলটি। তবে রূপরেখাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে আছে বলে বিএনপির ওই সূত্র জানিয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো অসাংবিধানিক সরকার তারা মানবে না। সরকারের এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই বিএনপি বলছে, তাদের রূপরেখাটি বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন না করেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

রূপরেখাটির খসড়ায় নির্বাচনকালীন ওই সরকারকে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার’ বলে উল্লেখ করেছে বিএনপি। তারা বলছে, বর্তমান সংবিধানের আওতায় এই সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ জন্য প্রথমেই রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার বলে মনে করছে দলটি।

বিএনপির রূপরেখার প্রস্তাব

১. নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। তবে তাতে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রাখা হবে না।

২. প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৭(১)(খ)/৫৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন। তাঁর পদত্যাগের পরপরই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ না করে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের একক সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তিনি সংবিধানে ৫৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ এক–দশমাংশ মন্ত্রী অনির্বাচিতদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন—এই বিধান প্রয়োগ করে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একজনকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। তবে ওই ব্যক্তি দলের কেউ হতে পারবে না।

এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে দেবেন এবং এঁরা কোনো দলের হবে না। যেহেতু এঁরা মন্ত্রী হবেন না, তাই এঁদের শপথের প্রয়োজন হবে না। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠিত হবে। এঁরা ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার দিন থেকে সহায়ক সরকারের মেয়াদে শেষ হবে।

বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতারা এই রূপরেখা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংবিধানের কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই আইনজীবীরা কিছু বলতে রাজি হননি। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমেদ সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্ভব। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা পাশাপাশি এও বলেছেন, এরশাদ সরকারের পতনের পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল। এবারও সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন সম্ভব। এতে যদি কিছুটা সংবিধানের সঙ্গে অসংগতি থাকে, তবে পরবর্তী সরকার এসে এর বৈধতা দিতে পারে। ফলে, সংবিধান সংশোধনের এখন কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

  • কার্টসিঃ প্রথম আলো/ সেপ্টেম্বর ২৬,২০১৮ 

Tool ripe for abuse: HRW

DIGITAL SECURITY ACT

The Digital Security Act, which replaces the much-criticised Information and Communication Technology Act, retains the most problematic provisions of the ICT law and adds more provisions criminalising peaceful speech, Human Rights Watch said yesterday.

It said the act passed by parliament last week, despite vehement opposition from the country's journalists, “strikes a blow to freedom of speech in the country”.

“The new Digital Security Act is a tool ripe for abuse and a clear violation of the country's obligations under international law to protect free speech,” Brad Adams, Asia director of HRW, said in a statement.

“With at least five provisions criminalising vaguely defined types of speech, the law is a licence for wide-ranging suppression of critical voices,” the statement said, adding, “Several provisions violate international standards on free expression.”

On Section 21 which authorises sentences of up to 14 years in prison, the HRW said the UN Human Rights Committee has expressly stated that laws that penalise the expression of opinions about historical facts are incompatible with a country's obligations to respect freedom of opinion and expression.

The committee is an independent expert body that monitors compliance with the International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) to which Bangladesh is a party.

About Section 25 (a), the global rights watchdog said publishing information that is “aggressive or frightening” is not defined in the law. The vagueness, combined with harsh potential penalty, increases the likelihood of self-censorship.

With no clear definition of what speech would be considered a violation of Section 31, the HRW said the provision leaves wide scope for the government to prosecute speech it does not like. 

The statement also highlights sections 28, 29 and 31 of the new law which grants law enforcement authorities wide-ranging powers to remove or block online information that “harms the unity of the country or any part of it, economic activities, security, defense, religious value or public order or spreads communal hostility and hatred,” and to conduct warrantless searches and seizures if a police officer has reason to believe it is possible that “any offense under the Act” has been or is being committed.

Journalists in Bangladesh opposed Section 32 of the law, which authorises up to 14 years for gathering, sending, or preserving classified information of any government using a computer or other digital device, noting that doing so is a means to expose wrongful actions by officials, the HRW said.

The UN Special Rapporteur on the promotion and protection of the right to freedom of opinion and expression has stressed the need to protect, not to prosecute, those who disclose information in the public interest. The Global Principles on National Security and the Right to Information make clear that journalists should not be prosecuted for receiving, possessing or disclosing even classified information to the public.

“The passage of this law utterly undermines any claim that the government of Bangladesh respects freedom of speech,” Adams said. “Unless parliament moves swiftly to repeal the law it just passed, the rights of the country's citizens to speak freely will remain under serious threat.”

In Bangladesh, the Editors' Council and various other journalists and reporters' organisations as well as RTI Forum have strongly protested the passage of the act, saying it is “against the freedom of the media and speech guaranteed by the constitution.”

  • Courtesy: The Daily Star /Sep 26, 2018

হাসপাতালের বেডে থেকেও ভাঙচুর মামলার আসামি

কাফি কামাল

মামলা, গ্রেপ্তার আর হয়রানিতে বিপর্যস্ত গাজীপুর জেলা বিএনপি। চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে কয়েক ডজন গায়েবি মামলা হয়েছে এ জেলায়। বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে দলটির মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দেয় পুলিশ। তবে কোনো ধরনের ঘটনা-দুর্ঘটনা ছাড়াই দায়ের করা হয়েছে বেশিরভাগ মামলা। এসব মামলায় আসামির তালিকায় নাম রয়েছে এমন অনেকের, যারা সে সময় গাজীপুরেই ছিলেন না। 

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন, ভারতের কলকাতা ও ভেলোরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ছেলের চিকিৎসার্থে সিঙ্গাপুরে ও পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে অবস্থানকারী অনেকের নামই রয়েছে আসামির তালিকায়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী তাদের যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে যানবাহন ভাঙচুর ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দেখেছে পুলিশ। আসামির তালিকায় উল্লিখিতদের নাম দেখে অবাক এলাকাবাসী।

গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

জেলা বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধনের আয়োজন করে গাজীপুর বিএনপি। কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণ পর লাঠিপেটা করে মানববন্ধন পণ্ড করে দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে ছাত্রদল নেতা আবির হোসেন গুলিবিদ্ধ ও অন্তত ২২ জন আহত হয়। পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগে ১১ই সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপি সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাজহারুল আলম, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, মজিবুর রহমানসহ ১৪০ জনের নাম উল্লেখ করে ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দেয় পুলিশ। মামলা নং-৭০ (৯) ১৮। একই ঘটনায় ৬৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা হয় কালিয়াকৈর থানায়। একইভাবে শ্রীপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়। কালীগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলায় নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে আসামির সংখ্যা শতাধিক।

জেলা বিএনপি নেতারা জানান, গাজীপুর সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুলের নাম। অথচ ওইদিন সকাল আটটায় তিনি সিঙ্গাপুর গিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে। মামলায় কাজী সাইয়েদুল ৩৪ নম্বর আসামি। কিন্তু ছেলের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন তিনি। একই দিন গাজীপুরের শ্রীপুরে দায়েরকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ কাইয়াসহ ৪৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলার ১৭ নম্বর আসামি হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সিরাজ কাইয়া। কিন্তু ঘটনার একসপ্তাহ আগে থেকেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি। এ মামলায় আরেক আসামি হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। অথচ তিনি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কেন্দ্রীয় মানববন্ধনে। আসামির তালিকায় রয়েছে অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামানের নাম। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঘটনার সময় তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দলের আরেক নেতা অ্যাডভোকেট মনির ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলেন ভারতের ভেলোরে। কালিয়াকৈরে দায়েরকৃত মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খলিলুর রহমান ইবরাহিম ও যুবদল মৌচাক শাখার সভাপতি রিয়াজ মেম্বারের নাম। ঘটনার সময় হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন খলিলুর রহমান। আর বিগত ৬ মাস ধরে কারাগারে আটক রয়েছেন রিয়াজ মেম্বার। কালিগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলায় থানা যুবদল নেতা শাহীন ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি বিপ্লবকে আসামি করা হয়। অথচ যে ঘটনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় তার তিনদিন আগেই ওই দুইজনকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার সময় তারা পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন। এ ছাড়া কালীগঞ্জ থানায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, ওপেন হার্ট সার্জারির রোগীসহ বেশ কয়েকজন বৃদ্ধকে আসামি করা হয়েছে। নেতারা জানান, কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকলেও পুলিশ তালিকা ধরে মামলা করায় অনেক নেতার নাম উঠেছে আসামির তালিকায়। সিঙ্গাপুরে থাকা কাজী সাইয়েদুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সে জন্য সোমবার সকাল আটটায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আমি সিঙ্গাপুরে আসি। কিন্তু পরে জানতে পেরেছি জয়দেবপুর থানায় দায়ের মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। 

বিএনপি’র কেন্দ্রীয় দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৪৮টি মামলা হয়েছে এ জেলায়। যেসব মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীসহ অন্তত ১১ হাজার ৫৬৮ জন। এর মধ্যে গাজীপুর মহানগরের ১৪ মামলায় ৮ হাজার ২২৯ জন ও গাজীপুর জেলার ৩৪ মামলায় আসামির সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৯ জন। তবে এ সময় গাজীপুর মহানগরের আলোচিত এক মামলায় জেলা ও মহানগর বিএনপির বেশিরভাগ সিনিয়র ও সক্রিয় নেতাকে আসামি করেছে পুলিশ। তবে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়টি গাজীপুর বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে নতুন কিছু নয়। কয়েক বছর ধরে গাজীপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মামলার বন্যা। বর্তমান সরকারের আমলে শিল্পনগরী খ্যাত গাজীপুর পরিণত হয়েছে মামলাপ্রবণ জেলায়। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের মামলা ও গ্রেপ্তার সেলের প্রধান কর্মকর্তা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ওসি সালাউদ্দিন জানান, ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গাজীপুর জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৯০টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এসব মামলায় আসামির তালিকায় রয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীসহ ৪২ হাজার ৪৮১ জনের নাম। যাদের বেশিরভাগই বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মী। 

গাজীপুর জেলা বিএনপি নেতারা জানান, গাজীপুরে বিএনপির কর্মিসভায় লাঠিপেটার পর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনসহ ১৪৭ জনের নামোল্লেখ করে ৩৪৭ নেতাকর্মীকে আসামি করে চলতি বছরের ২৮শে জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। জয়দেবপুর থানায় দায়েরকৃত মামলাটিতে অভিযোগ আনা হয় গোলযোগ ও সংঘর্ষের। রাজধানী ঢাকার প্রতিবেশী ও দেশের সবচেয়ে বড় সিটি করপোরেশন এখন গাজীপুর। বর্তমান সরকারের আমলে এই সিটির দুইটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হন বিএনপি ও অঙ্গ দলের শত শত নেতাকর্মী। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে কিছুদিনের জন্য সে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। ৭ই মে গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিতের পর সন্ধ্যায় বিএনপিদলীয় মেয়রপ্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারের বাড়ির সামনে থেকে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। 

পরে নোমানকে ছেড়ে দেয়া হলেও অন্যদের বিরুদ্ধে টঙ্গীতে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান, ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক মুসল্লি ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মুফতি নাসির উদ্দিনসহ ১০৩ জনের নামোল্লেখ এবং অন্যদের অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। নামোল্লেখকৃত আসামিদের মধ্যে বিএনপিদলীয় মেয়রপ্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যই ছিলেন ৪৮ জন। হাসানউদ্দিন সরকারের চার চাচাতো ভাই সালাহউদ্দিন সরকার, পাপ্পু সরকার, নকিবউদ্দিন সরকার ও অপু সরকারসহ তার আত্মীয় ছিলেন অন্তত ২০ জন। এ ছাড়া যে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলাটি করেছিল পুলিশ পরদিন দেখা যায় পুলিশের জব্দ করা লেগুনাটি অক্ষত পড়ে আছে টঙ্গী থানায়। সে গাড়িতে ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের কোনো আলামত ছিল না। পরদিন গাড়ির মালিক ও চালক গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাদের গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের শিকার হয়নি। বিএনপি নেতারা জানান, ২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের আগে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালায় পুলিশ। ২১শে জুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার গাজীপুরে প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করার পর থেকে সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপির নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। ২৪শে জুন এক রাতেই ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ১৮ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। নির্বাচনের আগের দিন ও নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে সমন্বয়কের দায়িত্বপ্রাপ্তদের তুলে নিয়ে টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদীতে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় নির্বাচনের দিন বিকালে। 

গাজীপুর জেলা বিএনপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, কোথাও কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা নেই কিন্তু গায়েবি মামলা দায়ের করছে পুলিশ। বিএনপির মানববন্ধনের মতো নিরীহ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের লাঠিপেটা করেছে, গুলিবর্ষণ করেছে। আবার পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলাও করেছে। তার মানে ঘটনা যা, তার সবই করছে পুলিশ। গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম বলেন, ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর থেকে গাজীপুরে জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা হয়েছে তার সবগুলো হাওয়াই মামলা। কোনো ধরনের ঘটনা ছাড়াই এসব মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, সরকারি এজেন্সির মাধ্যমে জেলা, থানাসহ প্রতিটি ইউনিট বিএনপি এবং অঙ্গ দলের কমিটির তালিকা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। বায়বীয় মামলাগুলোতে আসামি করা হচ্ছে সে তালিকা ধরে। এতে প্রতীয়মান হচ্ছে, উপরের ইশারায় বিএনপি নেতাদের নামে মামলা দেয়াটাই এখন যেন জরুরি, ঘটনার সত্য-মিথ্যা এখানে কোনো বিষয় নয়। 

  • কার্টসিঃ মানবজমিন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

Empower NRCC

It can't combat river encroachers otherwise


The purple colour of Karnopara Canal's water bears the evidence of indiscriminate discharge of toxic waste into it. Dyeing factories set up on both sides of the water body reportedly contribute to such pollution.


The media has for the last few decades highlighted the sorry state of our rivers, i.e. how powerful, vested quarters have taken advantage of the fact that the National River Conservation Commission (NRCC) was never given any legal or institutional capacity. The NRCC lacks teeth to do anything against polluters or river grabbers. Environmentalists have been voicing their concerns about this issue for many years, but the sad reality is that authorities are powerless to act because the NRCC cannot take any action in its present form.


It is not like there aren't enough laws to protect rivers. But who is going to implement those on behalf of the government, if not the NRCC? And whilst policymakers choose to turn a blind eye to the issue, we have thousands of fisherfolk out of jobs on the Buriganga River which is essentially a dead river. We see polluters wreaking havoc on other rivers like Norai, Debdholai and Balu rivers.
The media has covered the dual menace of pollution and river encroachment for years and yet nothing substantial has happened. The Buriganga may recover somewhere down the line as the tannery industry has been relocated to Savar, but the problem has basically been shifted to another river—Dhaleshwari—and while fishermen may one day fish again on the Buriganga, we may see new media reports in the coming years when the Dhaleshwari too begins to die due to pollution. If we are to save our rivers which are considered the lifeline of urban centres like Dhaka, then the time to act is now.


Courtesy: The Daily Star Editorial Sep 26, 2018



নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করুন

সড়ক-মহাসড়কের দুর্দশা


গত রোববার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আয়োজিত এক সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে সওজের কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই অসন্তোষ জন-অসন্তোষেরই প্রতিধ্বনি। সংবাদমাধ্যমে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগী জনসাধারণের অভিযোগ-অসন্তোষের ব্যাপক প্রতিফলন ঘটে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, রোববারের ওই সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনেক কর্মকর্তা এ বিষয়ে আত্মসমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিলেন। কৌতূহল জাগে, মন্ত্রীর অসন্তোষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মসমালোচনার কোনো সুফল কি ফলবে?


‘বাংলাদেশে মানসম্পন্ন সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে সেসব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে, যেগুলো ইতিমধ্যে বহুল আলোচিত। যেমন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনায় ত্রুটি আছে, সেগুলোর স্থায়িত্ব কম, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা, যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না; সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি ইত্যাদি। এই সবই বাস্তব সত্য। কিন্তু এসবের দায় কাদের? যাদের দায়, তাদের জবাবদিহির ব্যবস্থা ও চর্চা আছে কি না? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অনুশীলন না থাকলে কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হয় না।


সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, সওজের গত মে মাসের হিসাব অনুযায়ী ওই সময় পর্যন্ত দেশের প্রায় পৌনে ৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খারাপ। প্রশ্ন হলো, দেশের মোট সড়ক-মহাসড়কের চার ভাগেরও বেশির এই দুরবস্থা কেন হয়েছে। দুরবস্থায় পড়ার আগেই এগুলো মেরামত করা হয়নি কেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যেসব সড়ক-মহাসড়কের স্থানে স্থানে ভেঙেচুরে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো কত দিন আগে নির্মিত বা মেরামত করা হয়েছিল। প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কের স্বাভাবিক স্থায়িত্ব প্রত্যাশিত। কোনো সড়ক ৫ বছর, কোনোটি ১০ বছর টেকসই হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যায়, নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার দুই-এক বছরের মধ্যেই সেগুলো ভেঙেচুরে যায়, খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। তারপর সেসব বেহাল সড়ক-মহাসড়কের ভাঙাচোরা জায়গায় বিপুল অর্থ ব্যয় করে মেরামতি চালানো হয়, কিছু সময় পরেই সেগুলো আবার ভেঙেচুরে যায়। এভাবেই অবিরাম চলতে থাকে সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কারের নামে অর্থ ব্যয়, কিন্তু দুর্দশা কোনোভাবেই দূর হয় না।
একটা বহুল উচ্চারিত অভিযোগ, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের গুণগত মান অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু কেন খারাপ? নির্মাণ ও মেরামতের কাজ তদারকির দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরা কি সে দায়িত্ব যথাসময়ে ও যথাযথভাবে পালন করেন? যদি করেন, তাহলে নির্মাণ-মেরামতের গুণগত মান খারাপ হয় কীভাবে? জনসাধারণের চোখের সামনেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও মেরামতের কাজ চলে—এ রকম অভিযোগসংবলিত চিঠিপত্র সংবাদপত্রের দপ্তরে আসে, অথচ যাঁদের ওপর এসব কাজের তদারকির দায়িত্ব, তাঁরা এসব দেখতে পান না—এটা হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তদারকির অভাবে নির্মাণ-মেরামতের গুণগত মান খারাপ হলে এবং সেই কারণে সড়ক-মহাসড়কগুলো অচিরেই ভেঙেচুরে গেলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি ও শাস্তির অনুশীলন নেই বলে অবাধে অনিয়ম-দুর্নীতি চলছে। কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয় দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই—এমন অভিযোগও পাওয়া যায়। সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গত ৯ বছরে ৫৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। জনগণের এই বিপুল অর্থের কত ভাগ দুর্নীতিবাজদের পকেটে গেছে, তা হিসাব করার জন্য একটি তদন্ত হওয়া উচিত।
দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর চির-দুরবস্থা স্থায়ীভাবে দূর করতে হলে এই খাতে যে অনিয়ম-দুর্নীতি স্থায়ী ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, তা ভেঙে দিতে হবে।


Courtesy: Prothom Alo সম্পাদকীয়: Sep 26, 2018
 

সংবিধানের মধ্যেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দেখছে বিএনপি

তানভীর সোহেল, ঢাকা


সংবিধান সংশোধন না করেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্ভব বলে মনে করছে বিএনপি। বিদ্যমান সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের একটি রূপরেখা তৈরি করেছে দলটি।






বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, সরকার চাইলে তাদের এই রূপরেখা দেওয়া হতে পারে। অথবা এই রূপরেখা প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু করতে পারে দলটি। তবে রূপরেখাটি এখনো খসড়া পর্যায়ে আছে বলে বিএনপির ওই সূত্র জানিয়েছে।


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো অসাংবিধানিক সরকার তারা মানবে না। সরকারের এই অনড় অবস্থানের মধ্যেই বিএনপি বলছে, তাদের রূপরেখাটি বিদ্যমান সংবিধান সংশোধন না করেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।


রূপরেখাটির খসড়ায় নির্বাচনকালীন ওই সরকারকে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার’ বলে উল্লেখ করেছে বিএনপি। তারা বলছে, বর্তমান সংবিধানের আওতায় এই সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ জন্য প্রথমেই রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার বলে মনে করছে দলটি।
বিএনপির রূপরেখার প্রস্তাব

১. নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি। তবে তাতে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রাখা হবে না।


২. প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিন আগে সংসদ ভেঙে দিতে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৭(১)(খ)/৫৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন। তাঁর পদত্যাগের পরপরই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৭(৩) অনুচ্ছেদ প্রয়োগ না করে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের একক সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তিনি সংবিধানে ৫৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ এক–দশমাংশ মন্ত্রী অনির্বাচিতদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন—এই বিধান প্রয়োগ করে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে একজনকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। তবে ওই ব্যক্তি দলের কেউ হতে পারবে না।


এরপর রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে দেবেন এবং এঁরা কোনো দলের হবে না। যেহেতু এঁরা মন্ত্রী হবেন না, তাই এঁদের শপথের প্রয়োজন হবে না। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠিত হবে। এঁরা ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার দিন থেকে সহায়ক সরকারের মেয়াদে শেষ হবে।
বিএনপিপন্থী আইনজীবী নেতারা এই রূপরেখা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংবিধানের কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই আইনজীবীরা কিছু বলতে রাজি হননি। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমেদ সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলেছেন, সংবিধানের মধ্যে থেকেই নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্ভব। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা পাশাপাশি এও বলেছেন, এরশাদ সরকারের পতনের পর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল। এবারও সংবিধানের মধ্যে থেকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন সম্ভব। এতে যদি কিছুটা সংবিধানের সঙ্গে অসংগতি থাকে, তবে পরবর্তী সরকার এসে এর বৈধতা দিতে পারে। ফলে, সংবিধান সংশোধনের এখন কোনো প্রয়োজন পড়বে না।


Courtesy: Prathom Alo Sep 26, 2018

DIGITAL SECURITY ACT

Tool ripe for abuse: HRW


Diplomatic Correspondent


The Digital Security Act, which replaces the much-criticised Information and Communication Technology Act, retains the most problematic provisions of the ICT law and adds more provisions criminalising peaceful speech, Human Rights Watch said yesterday.


It said the act passed by parliament last week, despite vehement opposition from the country's journalists, “strikes a blow to freedom of speech in the country”.


“The new Digital Security Act is a tool ripe for abuse and a clear violation of the country's obligations under international law to protect free speech,” Brad Adams, Asia director of HRW, said in a statement.


“With at least five provisions criminalising vaguely defined types of speech, the law is a licence for wide-ranging suppression of critical voices,” the statement said, adding, “Several provisions violate international standards on free expression.”


On Section 21 which authorises sentences of up to 14 years in prison, the HRW said the UN Human Rights Committee has expressly stated that laws that penalise the expression of opinions about historical facts are incompatible with a country's obligations to respect freedom of opinion and expression.


The committee is an independent expert body that monitors compliance with the International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) to which Bangladesh is a party.


About Section 25 (a), the global rights watchdog said publishing information that is “aggressive or frightening” is not defined in the law. The vagueness, combined with harsh potential penalty, increases the likelihood of self-censorship.


With no clear definition of what speech would be considered a violation of Section 31, the HRW said the provision leaves wide scope for the government to prosecute speech it does not like.
The statement also highlights sections 28, 29 and 31 of the new law which grants law enforcement authorities wide-ranging powers to remove or block online information that “harms the unity of the country or any part of it, economic activities, security, defense, religious value or public order or spreads communal hostility and hatred,” and to conduct warrantless searches and seizures if a police officer has reason to believe it is possible that “any offense under the Act” has been or is being committed.


Journalists in Bangladesh opposed Section 32 of the law, which authorises up to 14 years for gathering, sending, or preserving classified information of any government using a computer or other digital device, noting that doing so is a means to expose wrongful actions by officials, the HRW said.


The UN Special Rapporteur on the promotion and protection of the right to freedom of opinion and expression has stressed the need to protect, not to prosecute, those who disclose information in the public interest. The Global Principles on National Security and the Right to Information make clear that journalists should not be prosecuted for receiving, possessing or disclosing even classified information to the public.


“The passage of this law utterly undermines any claim that the government of Bangladesh respects freedom of speech,” Adams said. “Unless parliament moves swiftly to repeal the law it just passed, the rights of the country's citizens to speak freely will remain under serious threat.”


In Bangladesh, the Editors' Council and various other journalists and reporters' organisations as well as RTI Forum have strongly protested the passage of the act, saying it is “against the freedom of the media and speech guaranteed by the constitution.”
Courtesy: The Daily Star Sep 26, 2018

Tuesday, September 25, 2018

ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না মোংলা ও বুড়িমারী বন্দরে

সম্পাদকীয়
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন এবং মোংলা সমুদ্রবন্দর ও কাস্টম হাউজ উভয় প্রতিষ্ঠানেই পণ্যছাড় ও শুল্কায়নের প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন হয়। বন্দরে দুই প্রকার দুর্নীতি হয়। একটি যোগসাজশের দুর্নীতি, অন্যটি বলপূর্বক অর্থ আদায়ের দুর্নীতি; যা ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এটা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে এখন। সেখানে যারা অংশীজন, তাদের সবারই এক ধরনের সিন্ডিকেটের মতো যোগসাজশ কাজ করছে। দিন দিন মানুষের উন্নতি হয়, আমাদের হচ্ছে অবনতি। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘ডুয়িং বিজনেস ২০১৮’ শীর্ষক বৈশ্বিক সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশে ব্যবসা করার পরিবেশ আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এমনটি হওয়ার অন্যতম কারণ কিন্তু ঘুষ, দুর্নীতি ও বন্দরগুলোর অদক্ষতা। ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যার চাপ গিয়ে পড়ছে ভোক্তার ওপর। ব্যবসার ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব অর্থনীতিতেও পড়ে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও পিছিয়ে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে বন্দরগুলোয় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বন্দরগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা হ্রাসের পেছনেও ঘুষের প্রভাব রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত মোংলা বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আনা-নেয়া করবে এখন। সেখানে ঘুষ ও দুর্নীতিপূর্ণ একটি অবস্থা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। 

পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি দুর্নীতি আছে, ঘুষের রেওয়াজ আছে। এ কথাটির আপেক্ষিক সত্যতা মেনে নিয়েও বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় দুর্নীতির ব্যাপকতাকে অস্বীকার করার কোনো অজুহাত নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এ দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের মনে ব্যাপক হতাশাবোধের জন্ম দিয়েছে। এ হতাশাবোধের মূল কারণ হলো, দেশের রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যকর ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করতে পারছে না। একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থার প্রধানতম ভিত্তি হওয়ার কথা এসব প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু আমরা কয়েক দশক ধরে এসব প্রতিষ্ঠানকে ক্রমে ধ্বংস বা অকার্যকর করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চালিত করছি।

সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুষ, দুর্নীতি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাধি থেকে নিস্তার পাওয়ার পথ হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন এবং উন্নয়ন ঘটানো। এজন্য আমাদের রাজনীতিক, আমলা আর দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনেরও কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ সেবা খাতের এ দুর্নীতিই সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করে তুলছে। যদি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সত্যিকার অর্থে কর্তৃপক্ষ চায়, তাহলে সেটা সম্ভব। শুধু যেটা দরকার, তা হলো সদিচ্ছা। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যেন এর মধ্য দিয়ে সবার কাছে এ বার্তা পৌঁছে যে অনিয়ম করলে, দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হয়।

  • কার্টসিঃ বনিক বার্তা/ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮