Search

Sunday, May 30, 2021

স্বাস্থ্যসেবায় শহিদ জিয়ার অমর কীর্তি

-----------------------------------

ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম

-----------------------------------

১৯৭২- ১৯৭৫ —  বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিপরীতে ছিল একদলীয় বাকশাল, ছিল না মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, চুরি-ডাকাতি, লুটপাট ও দুর্নীতি ছিল রন্ধ্রেরন্ধ্রে, গণবাহিনীর সাথে রক্ষীবাহিনীর যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত খুন হত, পার্বত্য অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আস্ফালন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, নির্বাহী বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা ও সেনাবাহিনীসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি খাদ্য ও স্বাস্থ্য সেবার অভাবে সারাদেশে দুর্ভিক্ষ ও রোগবালাইয়ে মানুষের মৃত্যুসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। 

সব সেক্টরের এরকম বিভীষিকাময় ও ভয়াবহ অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের হাল ধরেন। এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, স্বনির্ভর, শক্তিশালী সমৃদ্ধ এবং আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিলেন, বিচার, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনী, নির্বাহী ও শিক্ষা বিভাগের সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ও আধুনিকায়নের জন্য অনেক যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 

স্বাস্থ্য সেক্টরে অবদান নিয়ে আলোচনার শুরুতেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ক্ষণজন্মা পুরুষ, ইতিহাসের মহান নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রনাঙ্গনের যোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে। স্বাস্থ্য সেক্টরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবিস্মরণীয় ও উল্লেখযোগ্য অবদান —  দেশে প্রথিতযশা ও স্বনামধন্য বেসরকারি চিকিৎসকদের মেডিকেল কলেজে শিক্ষক ও উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন - মেডিসিনের প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, শিশু বিশেষজ্ঞ (ইউরোলজী) প্রফেসর ডা. আজিজুর রহমান, বারডেমের প্রফেসর ডা. মুহাম্মদ ইব্রাহিম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ । স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসেক্টরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দুইটি অধিদপ্তরের ভাগ করেন। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোর ব্রিটিশ জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের স্বীকৃতিr ব্যবস্থা করেন। মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রেসিডেন্টের কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক ভর্তির ব্যবস্থা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া। মেডিকেল কলেজে আমলা, রাজনীতিবিদ ও প্রফেসরদের স্বজনপ্রীতির শিক্ষার্থী মাইগ্রেশন বাতিল করে মেধাভিত্তিক মাইগ্রেশন পদ্ধতি চালু করেন। মেডিকেলের মেজর সাবজেক্ট গুলোতে (মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনী) সাব-স্পেশালিটি চালু করেন। তিনি মিডিল ইস্টসহ মুসলিম বিশ্বে দেশীয় চিকিৎসকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত স্বনামধন্য দেশী চিকিৎসকদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের মেধাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। 

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে কলেরা (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতাল, দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষ্যে ৫ জানুয়ারি ১৯৮১ সালে মহাখালীতে নার্সিং কলেজ এবং ১৯৮১ সালের ৩ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট জিয়া জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। উনার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় নিপসম, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও ইপিআই প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ৫০ শয্যার ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, পিজি হাসপাতালের সি-ব্লক, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটসহ চিকিৎসকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিএমএ ভবন-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি গ্রামীণ জনগণের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ২৭৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবার জন্য গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং সদ্য পাশ করা তরুণ চিকিৎসকদের থানা হেল্থ কমপ্লেক্সে ৩ বছর কাজ করা বাধ্যতামূলক করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, স্বনির্ভর, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস ও সূদরপ্রসারী চিন্তা ছিল। বাংলাদেশ নিজে পায়ে মাথা উচু করে দাঁড়াক এটা দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা মেনে নিতে পারেনি। এজন্যই ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষণজন্মা এই মহানায়ককে ১৯৮০ সালের ৩০মে রাতের আঁধারে কাপুরুষোচিত ভাবে হত্যা করে। যার ফলে, বর্তমানে গুম-খুন, ধর্ষণ, শাসকদলের সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশ আবারো এক বিভীষিকাময় ও ভয়াবহ অবস্থায় মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জিয়াউর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে একটি জাতিকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে উনার দর্শন ও আদর্শকে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ ও শেষ করতে চেয়েছিল। যা কিনা সম্ভব হয় নাই। বর্তমান বিভীষিকাময় অবস্থার মধ্যেও কোটি কোটি জনতা মুক্তির জন্য জিয়ার দর্শন ও আদর্শ বুকে ধারন করে আছে। তাই, জিয়ার দর্শন ও আদর্শ বিশ্বাসী সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে সব ধরনের জাতিঘাতী এবং রাষ্ট্রঘাতী অপকৌশলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং মানষের ভোটাধিকার, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতে হবে জয়ী । 

  • লেখক সিনিয়র সাইন্টিস্ট, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র। 


No comments:

Post a Comment