Search

Monday, July 16, 2018

সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতিতে দেশ

অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব রোধ করু


২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২২ কোটি ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে। 

বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান না বাড়লেও আমদানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। রফতানি ও রেমিট্যান্সপ্রবাহের চেয়ে আমদানি দ্রুত বাড়ায় লেনদেনের ভারসাম্যের চলতি হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর চাপ গিয়ে পড়ছে মুদ্রা বিনিময় বাজারে, ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ওপরও এক ধরনের চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে এতে। 

সাম্প্রতিক সময়ের রফতানি ও আমদানির ধারা লক্ষ করলে দেখা যায়, এ দুটির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্য হচ্ছে না। আমদানির ক্ষেত্রে মূলধনি যন্ত্রপাতির বাইরে পেট্রোলিয়াম, খাদ্যপণ্য প্রভৃতি অনেক বেশি আমদানি হচ্ছে। বিনিয়োগেও শ্লথ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। রফতানির ক্ষেত্রে যেভাবে মূল্যপতন হচ্ছে, আমদানির ক্ষেত্রে সেভাবে হচ্ছে না। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। আমদানি-রফতানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠছে। এক্ষেত্রে রফতানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং এবং আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদি হলে তা অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিলে তা সামগ্রিকভাবেই অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। লেনদেন ভারসাম্যে চাপ তৈরি হলে মুদ্রার বিনিময় হারেও তারতম্য দেখা দেয়। মুদ্রার দরবৃদ্ধি ঘটলে তা আমদানি পণ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। 

আবার ঘাটতি যদি ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তাহলে সামগ্রিকভাবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ, মুদ্রার বিনিময় হার, পণ্যমূল্য সবই প্রভাবিত হবে। যখন আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, তখন দেশের নীতিনির্ধারকদের কর্তব্য বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। এমনিতেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খাদ্য সূচকের মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতির ভেতর বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তে থাকলে তা আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করে। সুতরাং বাণিজ্য ঘাটতি দূরীকরণে সংশ্লিষ্টদের এমন পদক্ষেপ নেয়া সমীচীন, যাতে দেশের অর্থনীতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব না পড়ে।

প্রবাসী আয়ের ধারা অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা সামান্যই। শিগগির এ অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে— এমন কোনো লক্ষণও নেই। এ অবস্থায় উচিত হবে রফতানি আয় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। বিদেশী নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করেও এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। সেজন্য অবশ্য উন্নতি করতে হবে জ্বালানিসহ অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো খাতে। বাস্তবায়নাধীন বড় প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এ দুই খাতের কিছুটা উন্নতি হয়তো হবে। 

তবে এসবের কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত চলতি হিসাবে ভারসাম্য কীভাবে স্বাভাবিক রাখা যাবে, সেজন্য প্রয়োজনীয় বিকল্পও বের করতে হবে নীতিনির্ধারকদের। মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি দেখিয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির নামে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ধরনের প্রবণতা রোধেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ না থাকলেও বর্তমানের এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে চাপের মুখে পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও, বিনষ্ট হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

  • Courtesy: BanikBarta /Editorial/ Jul 16,2018

No comments:

Post a Comment